Class 12

Class 12 Semester 4 Economics Question Paper with Solution PDF 2025-26 | উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার ইকোনোমিক্স প্রশ্নপত্র উত্তর সহ

Class 12 Semester 4 Economics Question Paper with Solution PDF 2025 26

Class 12 Semester 4 Economics Question Paper with Solution PDF 2025-26

উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের ইকোনোমিক্স প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। এই পোস্টে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সহজবোধ্য উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে নিতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে করতে পারে। Class 12 Semester 4 Economics Question Paper with Solution PDF 2025-26 দ্রুত পুনরাবৃত্তি ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

Economics SEM IV

১. ছয়টি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) যে-কোনো দুটি অ-কর রাজস্বের নাম উল্লেখ করো।

উত্তর: অ-কর রাজস্বের দুটি উদাহরণ হল—১. ফি ও ২. জরিমানা।

B) করপাত ও করঘাত-এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: করপাত ও করঘাতের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—

১. সংজ্ঞা: করদাতার ওপর প্রথমবার যে করের বোঝা আরোপিত হয়, তাকে করপাত বলে। করের বোঝা শেষ পর্যন্ত যে ব্যক্তির ওপর বর্তায়, তাকে করঘাত বলে।

২. বোঝা বহন: করপাতের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে করদাতাকে কর দিতে হয়। করঘাতের ক্ষেত্রে করের চূড়ান্ত বোঝা যে ব্যক্তি বহন করেন, তিনিই প্রকৃত করভার বহনকারী।

C) GST কী? এটির একটি প্রধান সুবিধা উল্লেখ করো।

উত্তর: GST-এর পূর্ণরূপ হলো Goods and Services Tax বা পণ্য ও পরিষেবা কর। এটি পণ্য ও পরিষেবার ওপর আরোপিত একটি পরোক্ষ কর।

প্রধান সুবিধা: GST চালুর ফলে বিভিন্ন পরোক্ষ করের পরিবর্তে একটি অভিন্ন করব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, ফলে করব্যবস্থা সরল হয়েছে।

D) ‘প্রাথমিক ঘাটতি’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সরকারের মোট ব্যয় থেকে সুদ প্রদানের ব্যয় বাদ দিলে যে ব্যয় থাকে, তার তুলনায় সরকারের মোট রাজস্ব ও ঋণবহির্ভূত মূলধন প্রাপ্তির ঘাটতিকে প্রাথমিক ঘাটতি বলে।

E) ‘বাজেট ঘাটতির আর্থিকীকরণ’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সরকার যখন বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন মুদ্রা সৃষ্টি করে বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তখন তাকে বাজেট ঘাটতির আর্থিকীকরণ বলে।

F) একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ কাকে বলে?

উত্তর: দেশের সরকার যখন দেশের অভ্যন্তরে নাগরিক, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তখন তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে।

২. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

A) দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ভারতে গৃহীত মহলানবিশ মডেলের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: মহলানবিশ মডেল: ভারতীয় পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের পরিকল্পনা অনুসারে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৫৬–১৯৬১) ভারতে ভারী শিল্পকেন্দ্রিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। এই মডেলের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—

১. ভারী ও মূলধনি দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্পের ওপর গুরুত্ব: মহলানবিশ মডেলে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য লোহা-ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, ভারী প্রকৌশল ও অন্যান্য মূলধনি দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মূলধনি দ্রব্যের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জন করা।

২. সরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ: ভারী শিল্পের উন্নয়নে সরকারি খাতকে প্রধান ভূমিকা দেওয়া হয় এবং বৃহৎ পরিমাণে মূলধন বিনিয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়।

B) ভারতে ১৯৯১ সালে গৃহীত নয়া শিল্পনীতির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ভারতে ১৯৯১ সালে গৃহীত নয়া শিল্পনীতির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল—

১. শিল্পের লাইসেন্স প্রথা বিলোপ: নয়া শিল্পনীতিতে অধিকাংশ শিল্পের ক্ষেত্রে সরকারি লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোগ ও শিল্পের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায় এবং শিল্পোদ্যোগীরা সহজে নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণ করতে পারেন।

২. সরকারি খাতের সংরক্ষণ হ্রাস: সরকারি খাতের জন্য সংরক্ষিত শিল্পের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়।

C) ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) গড়ে তোলার পিছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য উল্লেখ করো।

উত্তর: ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) গড়ে তোলার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

১. সদস্য দেশগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং বাণিজ্যিক বাধা, যেমন—শুল্ক ও আমদানি-রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কমানো।

২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করা।

D) ‘আমদানি প্রতিস্থাপন’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আমদানি প্রতিস্থাপন: যে অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য ও দ্রব্যের পরিবর্তে সেই পণ্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয় এবং ধীরে ধীরে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো হয়, তাকে আমদানি প্রতিস্থাপন বলে। এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হল দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটানো। এর ফলে দেশীয় শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।

৩. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি’র ধারণা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নয়নের সুযোগ পায়, তাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি বলে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—

১. সুযোগের সমতা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমূলক কাজে সকলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।
২. দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস: অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি করা এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমানো।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সকল শ্রেণির মানুষের জন্য উপযুক্ত ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা: নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. আঞ্চলিক ভারসাম্য: শহর ও গ্রামের মধ্যে এবং উন্নত ও অনুন্নত অঞ্চলের মধ্যে উন্নয়নের পার্থক্য কমানো।
৬. টেকসই উন্নয়ন: পরিবেশ রক্ষা করে এমনভাবে উন্নয়ন ঘটানো, যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উভয়ই উপকৃত হয়।

B) দারিদ্র্য রেখা কাকে বলে?

উত্তর: যে কাল্পনিক সীমারেখার সাহায্যে কোনো দেশের মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের সামর্থ্য নির্ধারণ করা হয়, তাকে দারিদ্র্য রেখা বলে।

দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী মানুষদের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বা দরিদ্র বলা হয়। এই রেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের আয়, ভোগব্যয়, খাদ্যগ্রহণ ও জীবনযাত্রার ন্যূনতম প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়।

দারিদ্র্য রেখা একটি দেশের দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ণয়, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা গণনা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) একটি অর্থনীতির অর্থের জোগানের উপাদানসমূহ কী কী?

উত্তর: একটি অর্থনীতির অর্থের জোগানের প্রধান উপাদানগুলি হলো—

১. জনসাধারণের হাতে থাকা নগদ অর্থ: জনগণের কাছে থাকা নোট ও কয়েন অর্থের জোগানের একটি প্রধান উপাদান।
২. ব্যাঙ্কে চলতি আমানত: বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে জনগণের জমা রাখা চলতি হিসাবের আমানত অর্থের জোগানের অন্তর্ভুক্ত।
৩. অন্যান্য আমানত: ব্যাঙ্কের সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানতের একটি অংশও অর্থের জোগানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আমানত: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে থাকা কিছু আমানত ও প্রচলিত অর্থও অর্থের জোগানের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

B) চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি কিরূপে সৃষ্টি হয় সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অর্থনীতিতে পণ্য ও পরিষেবার মোট চাহিদা যদি উৎপাদন বা মোট জোগানের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাহলে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়।

জনসাধারণের আয় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের প্রসার বা অর্থের জোগান বৃদ্ধির ফলে বাজারে মোট চাহিদা বাড়তে পারে। কিন্তু উৎপাদন সেই অনুপাতে বৃদ্ধি না পেলে সীমিত পণ্য ও পরিষেবার জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে যায় এবং সামগ্রিক মূল্যস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই মূল্যবৃদ্ধিকেই চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।

৫. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) প্রগতিশীল কর ও সমানুপাতিক করের মধ্যে পার্থক্য কী ব্যাখ্যা করো।


উত্তর: প্রগতিশীল কর ও সমানুপাতিক করের মধ্যে পার্থক্যগুলি হলো—

১. করের হার: প্রগতিশীল করের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে করের হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সমানুপাতিক করের ক্ষেত্রে আয় যতই বৃদ্ধি পাক, করের হার অপরিবর্তিত থাকে।

২. করদাতার উপর প্রভাব: প্রগতিশীল কর ব্যবস্থায় উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা আয়ের তুলনায় বেশি হারে কর প্রদান করেন। সমানুপাতিক কর ব্যবস্থায় সকল করদাতা একই হারে কর প্রদান করেন।

৩. উদাহরণ: প্রগতিশীল করের ক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকা আয়ে ১০% এবং ৫০,০০০ টাকা আয়ে ২০% কর হতে পারে। সমানুপাতিক করের ক্ষেত্রে উভয় আয়ের উপরই ১০% হারে কর ধার্য হয়।

৪. উদ্দেশ্য: প্রগতিশীল কর আয়ের বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে। সমানুপাতিক করের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো করের হারের স্থায়িত্ব ও সরলতা।

B) সরকারি ঋণের প্রকারভেদ করো এবং অর্থনীতিতে এদের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।


উত্তর: সরকারি ঋণ প্রধানত দুই প্রকার—

১. অভ্যন্তরীণ ঋণ: দেশের অভ্যন্তর থেকে জনগণ, ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে অভ্যন্তরীণ ঋণ বলে।

২. বৈদেশিক ঋণ: বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে সরকার যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে বৈদেশিক ঋণ বলে।

অর্থনীতিতে প্রভাব: সরকারি ঋণের অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ঋণের পরিমাণ অতিরিক্ত হলে সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বাড়ে, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা সৃষ্টি হতে পারে।

৬. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

A) একটি অর্থনীতির ‘পরিসেবা ক্ষেত্র’ বলতে কী বোঝো? বিশ্ব বাণিজ্যে লিপ্ত এমন কিছু পরিসেবার উদাহরণ দাও।

উত্তর: অর্থনীতির যে ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে মানুষের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য নানা ধরনের পরিষেবা প্রদান করা হয়, তাকে পরিসেবা ক্ষেত্র বা তৃতীয় ক্ষেত্র বলে।

বিশ্ব বাণিজ্যে লিপ্ত কয়েকটি পরিসেবার উদাহরণ হলো—

১. তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার পরিষেবা।

২. ব্যাংকিং, বিমা ও আর্থিক পরিষেবা।

৩. পর্যটন ও হোটেল পরিষেবা।

৪. পরিবহন, যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা পরিষেবা।

B) ভারতে পরিসেবা ক্ষেত্রের প্রসারের অনুকূল উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর: ভারতে পরিসেবা ক্ষেত্রের প্রসারের অনুকূল উপাদানগুলি হলো—

১. শিক্ষার প্রসার: শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন পরিষেবার উন্নতি ঘটেছে।

২. তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি: কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ও অনলাইন পরিষেবার প্রসার ঘটেছে।

৩. নগরায়ণ ও আয় বৃদ্ধি: নগরায়ণ এবং মানুষের আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকিং, পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে পরিষেবার চাহিদা বেড়েছে।

৪. বিশ্বায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ: বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বহুজাতিক সংস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে পরিসেবা ক্ষেত্রের প্রসার ঘটেছে।

C) ভারতে আউটসোর্সিং-এর বিকাশের কারণগুলি লেখো।


উত্তর: ভারতে আউটসোর্সিং-এর বিকাশের প্রধান কারণগুলি হলো—

১. দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তি: ভারতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত, প্রযুক্তিবিদ্যা-জ্ঞানসম্পন্ন ও দক্ষ কর্মী রয়েছে।

২. কম শ্রমব্যয়: উন্নত দেশগুলির তুলনায় ভারতে দক্ষ শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বিদেশি সংস্থাগুলি ভারতে কাজ করাতে আগ্রহী হয়।

৩. ইংরেজি ভাষার জ্ঞান: ভারতের বহু মানুষের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও কাজ করা সহজ হয়।

৪. তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: ইন্টারনেট, কম্পিউটার, টেলিযোগাযোগ ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিদেশি সংস্থার কাজ ভারতে সহজে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।

D) ভারতের পরিসেবা ক্ষেত্রে উদারীকরণ ও বিশ্বায়ন কী কী কাঠামোগত ও গুণগত পরিবর্তন এনেছে ব্যাখ্যা করো।


উত্তর: ভারতের পরিসেবা ক্ষেত্রে উদারীকরণ ও বিশ্বায়নের ফলে নিম্নলিখিত কাঠামোগত ও গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে—

১. কাঠামোগত পরিবর্তন: ভারতের জাতীয় আয় ও কর্মসংস্থানে পরিসেবা ক্ষেত্রের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকিং, বিমা, পরিবহন, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ পরিষেবার প্রসার ঘটেছে।

২. বেসরকারি অংশগ্রহণ: সরকারি নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাওয়ায় বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থার প্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

৩. গুণগত পরিবর্তন: আধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিষেবার গুণমান, দ্রুততা ও দক্ষতা উন্নত হয়েছে।

৪. আন্তর্জাতিকীকরণ: তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, কল সেন্টার ও আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে ভারতের পরিসেবা ক্ষেত্র আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বেড়েছে।

৭. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) একটি উদাহরণের সাহায্যে দেখাও যে কীভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি যৌথভাবে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক আমানতের কয়েকগুণ বেশি ঋণ সৃষ্টি করতে পারে।

উত্তর: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি প্রাথমিক আমানতের একটি অংশ নগদ সংরক্ষণ করে এবং অবশিষ্ট অংশ ঋণ হিসেবে প্রদান করে। সেই ঋণের অর্থ আবার অন্য কোনো ব্যাংকে আমানত হিসেবে জমা পড়ে। ব্যাংক সেই আমানতের একটি অংশ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট অংশ পুনরায় ঋণ হিসেবে দেয়। এভাবে একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আমানত ও ঋণ সৃষ্টি হতে থাকে এবং প্রাথমিক আমানতের কয়েকগুণ বেশি ঋণ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।

উদাহরণ: ধরা যাক, প্রাথমিক আমানত 1000 টাকা এবং নগদ সংরক্ষণ অনুপাত 20%।

ব্যাংক আমানত (টাকা) সংরক্ষণ (20%) ঋণ প্রদান (টাকা)
প্রথম ব্যাংক 1000 200 800
দ্বিতীয় ব্যাংক 800 160 640
তৃতীয় ব্যাংক 640 128 512
চতুর্থ ব্যাংক 512 102.40 409.60
পরবর্তী ব্যাংকগুলি ক্রমশ কমতে থাকে

এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে,

আমানত গুণক = \frac{1}{নগদ\ সংরক্ষণ\ অনুপাত}

=\frac{1}{0.20}=5

অতএব,

মোট আমানত = 1000\times\frac{1}{0.20}=5000 টাকা।

সুতরাং,

মোট ঋণ সৃষ্টি = মোট আমানত − প্রাথমিক আমানত

=5000-1000=4000 টাকা।

অতএব, 1000 টাকা প্রাথমিক আমানতের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি যৌথভাবে 4000 টাকা অতিরিক্ত ঋণ সৃষ্টি করতে পারে।

B) ‘মুদ্রাস্ফীতি’ বলতে কী বোঝো? একটি অর্থনীতির উপর মুদ্রাস্ফীতির বিভিন্ন প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: কোনো অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট সময় ধরে পণ্য ও পরিষেবার সাধারণ মূল্যস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেলে তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

অর্থনীতির উপর মুদ্রাস্ফীতির বিভিন্ন প্রভাব:

১. ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস: পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কেনা যায়।

২. আয়ের বৈষম্য বৃদ্ধি: স্থির আয়ের মানুষ, যেমন—বেতনভোগী ও পেনশনভোগীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের মুনাফা বৃদ্ধি পেতে পারে।

৩. সঞ্চয়ের উপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। তাই মানুষ সঞ্চয়ের পরিবর্তে বেশি ব্যয় করতে উৎসাহিত হতে পারে।

৪. উৎপাদন ও বিনিয়োগে প্রভাব: নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদকদের মুনাফার প্রত্যাশা বাড়িয়ে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে।

৫. বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাব: দেশের পণ্যের দাম বিদেশি পণ্যের তুলনায় বেশি বেড়ে গেলে রপ্তানি কমতে এবং আমদানি বাড়তে পারে।

৬. জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে।

৮. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

A) ‘আয় বৈষম্য’ ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। ভারতে দারিদ্র্য বজায় থাকার কারণগুলি কী কী?

উত্তর: কোনো দেশের জনগণের মধ্যে আয় সমানভাবে বণ্টিত না হয়ে কিছু মানুষের আয় অত্যন্ত বেশি এবং অধিকাংশ মানুষের আয় তুলনামূলকভাবে কম হলে তাকে আয় বৈষম্য বলে। অর্থাৎ, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয়ের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, তাই আয় বৈষম্য।

ভারতে দারিদ্র্য বজায় থাকার কারণগুলি:

১. বেকারত্ব ও অর্ধবেকারত্ব: পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে বহু মানুষ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত আয় করতে পারেন না।

২. জনসংখ্যার চাপ: দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

৩. আয়ের বৈষম্য: দেশের সম্পদ ও আয়ের একটি বড় অংশ অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকায় দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কমে যায়।

৪. কৃষিক্ষেত্রের পশ্চাৎপদতা: কৃষির উৎপাদনশীলতা কম, জমির অসম বণ্টন এবং কৃষির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্রামীণ দারিদ্র্য বজায় থাকে।

৫. শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব: শিক্ষার সুযোগ ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে অনেক মানুষ ভালো কাজ ও বেশি আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

৬. মূল্যবৃদ্ধি ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যয়, কুসংস্কার এবং সামাজিক বৈষম্য দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।

B) নীতি (NITI) আয়োগের (Aayog) প্রধান কার্যাবলি লেখো।

উত্তর: নীতি আয়োগের প্রধান কার্যাবলিগুলি হলো—

১. জাতীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা: দেশের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি নীতি এবং কর্মসূচি প্রণয়নে সাহায্য করা।

২. কেন্দ্র ও রাজ্যের সহযোগিতা: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে রাজ্যগুলির মতামত গ্রহণ করা।

৩. সম্পদের সঠিক ব্যবহার: দেশের প্রাকৃতিক, মানবিক ও আর্থিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা।

৪. উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মূল্যায়ন: বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ এবং ফলাফল মূল্যায়ন করা।

৫. অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের উন্নয়নের জন্য নীতি প্রণয়নে সহায়তা করা।

৬. উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রসার: গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে উৎসাহিত করা।

Shares:

Related Posts

Higher-Secondary-History-Question-Paper-PDF-2023
Class 12

Higher Secondary History Question Paper PDF 2023 | উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নপত্র PDF 2023

এই নিবন্ধে আমরা জানবো 2023 সালের উচ্চমাধ্যমিকের ইতিহাস প্রশ্নগুলি সম্পর্কে। আশা করি তোমরা যারা এই বছর উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষা দিলে তাদের পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। Notekoro.com -এর পক্ষ থেকে 2023
Higher Secondary Political Science Question Paper PDF 2023 | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র PDF 2023
Class 12

Higher Secondary Political Science Question Paper PDF 2023 | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র PDF 2023

Higher Secondary Political Science Question Paper PDF 2023 | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র PDF 2023 এই নিবন্ধে আমরা জানবো 2023 সালের উচ্চমাধ্যমিকের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্নগুলি সম্পর্কে। আশা করি তোমরা যারা এই বছর
Class 12 Semester 3 Computer Science Question Paper with Solution PDF 2025-26
Class 12

Class 12 Semester 3 Computer Science Question Paper with Solution PDF 2025-26 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার কম্পিউটার সায়ন্স প্রশ্নপত্র উত্তর সহ

Class 12 Semester 3 Computer Science Question Paper with Solution PDF 2025-26 উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর তৃতীয় সেমিস্টারের কম্পিউটার সায়েন্স প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *