Class 12 Semester 4 Political Science Question Paper with Solution PDF 2025-26
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। এই পোস্টে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সহজবোধ্য উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে নিতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে করতে পারে। Class 12 Semester 4 Political Science Question Paper with Solution PDF 2025-26 দ্রুত পুনরাবৃত্তি ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
১. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞা দাও।
B) ‘The Twenty Years’ Crisis 1919-1939’ গ্রন্থটি কে, কত সালে লিখেছেন?
২. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ‘Brexit’ বলতে কী বোঝায়?
B) SAARC-এর পূর্ণরূপটি কী?
৩. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে কিভাবে অপসারিত হন?
B) ‘বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ’ (Habeas Corpus) কী?
৪. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ভারতের নাগরিক সমাজের আন্দোলনের যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করো।
১. অরাজনৈতিক প্রকৃতি: এই আন্দোলনগুলি সাধারণত সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না।
২. জনস্বার্থকেন্দ্রিকতা: নাগরিক সমাজের আন্দোলনগুলি সাধারণ মানুষের অধিকার, পরিবেশ, নারী-পুরুষের সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের মতো জনস্বার্থমূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
B) চিপকো আন্দোলনের যে-কোনো দু’জন নেতার নাম উল্লেখ করো।
১. সুন্দরলাল বহুগুণা
২. চণ্ডীপ্রসাদ ভট্ট
৫. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশেষ উল্লেখযোগ্য স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দুটি কাজ উল্লেখ করো।
১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য: গ্রামের রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া।
২. গ্রামীণ উন্নয়ন: গ্রামের রাস্তা, আলো, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা।
B) গ্রাম সভা বলতে কী বোঝো?
৬. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ASEAN-এর সাফল্যের মূল দিকগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
১. আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা: সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২. অর্থনৈতিক সহযোগিতা: সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে তুলতে ASEAN গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
৩. রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ASEAN একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৪. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা: শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে।
B) ইউরোপীয় ইউনিয়ন গড়ে ওঠার মূল উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল?
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা: ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
২. অর্থনৈতিক সহযোগিতা: সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে একটি শক্তিশালী অভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. রাজনৈতিক সহযোগিতা: ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক সহযোগিতা ও ঐক্য বৃদ্ধি করা।
৪. সামাজিক উন্নয়ন: সদস্য দেশগুলির মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৭. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ‘নর্মদা বাঁচাও’ আন্দোলনের কারণসমূহ আলোচনা করো।
১. বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ: নর্মদা নদীর ওপর বৃহৎ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
২. বাস্তুচ্যুতির সমস্যা: বাঁধ নির্মাণের কারণে বহু মানুষ, বিশেষত আদিবাসী ও গ্রামীণ জনগণকে তাঁদের বসতভিটা ও জমি থেকে উচ্ছেদ হতে হয়।
৩. পুনর্বাসনের অভাব: উচ্ছেদ হওয়া মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
৪. পরিবেশের ক্ষতি: বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে বনভূমি ধ্বংস, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
৫. জীবিকা রক্ষার দাবি: স্থানীয় মানুষের কৃষিজমি, বনজ সম্পদ ও ঐতিহ্যগত জীবিকা রক্ষা করার দাবিও এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ ছিল।
B) ‘চিপকো আন্দোলন’-এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।
চিপকো আন্দোলন ছিল ভারতে বন ও পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের (বর্তমানে উত্তরাখণ্ড) গাড়োয়াল অঞ্চলে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।
উদ্দেশ্য: বনভূমি ও গাছপালা রক্ষা করা এবং নির্বিচারে গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো ছিল এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য।
পদ্ধতি: আন্দোলনকারীরা গাছকে জড়িয়ে ধরে গাছ কাটার প্রতিবাদ করতেন। এই কারণে আন্দোলনটি ‘চিপকো’ নামে পরিচিত হয়।
নেতৃত্ব: সুন্দরলাল বহুগুণা, চণ্ডীপ্রসাদ ভট্ট প্রমুখ এই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। মহিলারাও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
গুরুত্ব: চিপকো আন্দোলন পরিবেশ সংরক্ষণ, বন রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৮. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ৩৬৮ নং ধারা অনুসারে ভারতের সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি আলোচনা করো।
১. সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: সংবিধানের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। এই সংশোধনগুলি ৩৬৮ নং ধারার বিশেষ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
২. বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: অধিকাংশ সাংবিধানিক বিষয় সংশোধনের জন্য সংসদের উভয় কক্ষে মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
৩. বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাজ্যের অনুমোদন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতার বণ্টন, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের ক্ষমতা, সংসদে রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব এবং ৩৬৮ নং ধারার বিধান প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি অন্তত অর্ধেক রাজ্য বিধানসভার অনুমোদন প্রয়োজন।
৪. রাষ্ট্রপতির সম্মতি: সংশোধনী বিল সংসদের উভয় কক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি দিতে বাধ্য। সম্মতি পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধিত হয়।
B) রাজ্য সরকার কিভাবে পৌরসভাকে নিয়ন্ত্রণ করে?
১. আইন প্রণয়ন: রাজ্য সরকার পৌরসভার গঠন, ক্ষমতা, কার্যাবলি ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আইন প্রণয়ন করে।
২. আর্থিক নিয়ন্ত্রণ: রাজ্য সরকার পৌরসভাকে অনুদান প্রদান করে এবং তার আর্থিক কার্যকলাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।
৩. পরিদর্শন ও তদারকি: রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর পৌরসভার প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজকর্ম পরিদর্শন ও তদারকি করে।
৪. পৌরসভা ভেঙে দেওয়া: কোনো পৌরসভা আইন অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হলে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট আইনানুযায়ী সেটিকে ভেঙে দিতে পারে।
৯. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চর্চায় বাস্তববাদের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো।
১. রাষ্ট্রকেন্দ্রিকতা: বাস্তববাদে রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান ও কেন্দ্রীয় অ-নায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২. জাতীয় স্বার্থ: রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সম্প্রসারণ করা।
৩. ক্ষমতার গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতা, বিশেষত সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. আন্তর্জাতিক অরাজকতা: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণকারী কোনো সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই। তাই প্রতিটি রাষ্ট্রকে নিজের নিরাপত্তার জন্য নিজেকেই নির্ভর করতে হয়।
৫. শক্তির ভারসাম্য: রাষ্ট্রগুলি নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং কোনো একটি রাষ্ট্রের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রতিহত করতে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
৬. আত্মরক্ষার নীতি: প্রতিটি রাষ্ট্র নিজের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে।
B) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় আদর্শবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।
১. শান্তির প্রতি বিশ্বাস: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান সম্ভব বলে আদর্শবাদীরা মনে করেন।
২. আন্তর্জাতিক আইন: রাষ্ট্রগুলির আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক আইনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
৩. আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্ব: জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৪. নৈতিকতার গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৫. যুদ্ধের বিরোধিতা: যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানের উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে আদর্শবাদীরা গ্রহণ করেন না।
১০. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) বিশ্বায়নের সংজ্ঞা দাও। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
বিশ্বায়নের সংজ্ঞা: বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।
বিশ্বায়নের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি:
১. অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা: বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পুঁজির অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
২. পণ্য ও পরিষেবার অবাধ প্রবাহ: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবার আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়।
৩. প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে।
৪. সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান: বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা, ভাষা ও ভাবধারার আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি: বিভিন্ন রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
B) বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক দিক সম্পর্কে সমালোচনামূলক আলোচনা করো।
ইতিবাচক দিক:
১. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি: বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. বিদেশি বিনিয়োগ: উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিদেশি পুঁজি ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে শিল্প ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেছে।
৩. প্রযুক্তির প্রসার: উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ: নতুন শিল্প ও বহুজাতিক সংস্থার প্রসারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেতিবাচক দিক:
৫. অর্থনৈতিক বৈষম্য: বিশ্বায়নের সুফল সব দেশ ও সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। ফলে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
৬. ক্ষুদ্র শিল্পের সংকট: বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৭. বহুজাতিক সংস্থার প্রভাব: উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতিতে বহুজাতিক সংস্থাগুলির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক সময় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে।
অতএব, বিশ্বায়ন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুযোগ সৃষ্টি করলেও এর সুফল সুষমভাবে বণ্টিত না হলে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্বল শ্রেণির ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
১১. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটির উত্তর দাও:
A) ভারতীয় সংসদের দুই কক্ষের সাংবিধানিক সম্পর্ক আলোচনা করো।
১. আইন প্রণয়ন: সাধারণ বিল উভয় কক্ষেই উত্থাপন করা যায় এবং উভয় কক্ষের সম্মতি ছাড়া তা আইনে পরিণত হয় না।
২. অর্থবিলের ক্ষেত্রে: অর্থবিল কেবল লোকসভায় উত্থাপন করা যায়। রাজ্যসভা অর্থবিলের ক্ষেত্রে কেবল সুপারিশ করতে পারে এবং ১৪ দিনের মধ্যে তা লোকসভায় ফেরত পাঠাতে হয়।
৩. সাধারণ বিলের ক্ষেত্রে: কোনো সাধারণ বিল নিয়ে দুই কক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি যৌথ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। যৌথ অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪. সংবিধান সংশোধন: সংবিধান সংশোধনী বিল উভয় কক্ষেই পৃথকভাবে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হয়। কোনো কক্ষের ক্ষেত্রে অন্য কক্ষ তার বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে না।
৫. সরকারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ: মন্ত্রীসভা সম্মিলিতভাবে লোকসভার কাছে দায়বদ্ধ। তাই সরকারের ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লোকসভার ভূমিকা বেশি হলেও রাজ্যসভাও প্রশ্নোত্তর, আলোচনা ও অন্যান্য সংসদীয় পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারের কাজের সমালোচনা ও পর্যালোচনা করতে পারে।
B) ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করো।
গঠন: সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক অন্যান্য বিচারপতি থাকেন। বিচারপতিদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ বছর।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
১. মূল এখতিয়ার: কেন্দ্র ও এক বা একাধিক রাজ্যের মধ্যে এবং দুই বা ততোধিক রাজ্যের মধ্যে সাংবিধানিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করে।
২. আপিলের এখতিয়ার: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সাংবিধানিক বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্তে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যায়।
৩. রিট জারি: মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্ট হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, সার্টিওরারি ও কো-ওয়ারেন্টো প্রভৃতি রিট জারি করতে পারে।
৪. বিচারবিভাগীয় পুনর্বিবেচনা: সংসদ বা রাজ্য আইনসভা প্রণীত কোনো আইন সংবিধানবিরোধী হলে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
৫. পরামর্শমূলক ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বা বাস্তব প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন।
৬. সংবিধানের রক্ষক: সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ব্যাখ্যা করে এবং সংবিধানের মর্যাদা ও সর্বোচ্চতা রক্ষা করে।
