Madhyamik 2026 Geography Question Paper Solution
মাধ্যামিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য ভূগোল প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ সমাধান এখানে উপস্থাপন করা হলো। এই পোস্টে বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন, মানচিত্র কাজ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর সহজ ও স্পষ্ট বাংলা ভাষায় ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হয়েছে। অধ্যায়ভিত্তিক ও প্রশ্নভিত্তিক এই সমাধান শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
১. বিকল্প গুলি থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখঃ
১.১ বহির্জাত শক্তির মূল উৎস হল —
১.২ পার্বত্য হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্ট গভীর কাটলিগুলিকে বলে —
১.৩ হেটেরোস্ফিয়ারের প্রথম উপস্তর হল —
১.৪ আল্পস পর্বতের উত্তর ঢালে যে স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের ফলে বরফ গলে যায়, তা হল —
১.৫ ‘শৈবাল সাগর’ দেখা যায় —
১.৬ পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে সমুদ্র জলতলের নিয়মিত উত্থান ও পতনকে বলা হয় —
১.৭ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিতটি 3R-এর অন্তর্ভুক্ত নয় —
১.৮ অন্ধ্রপ্রদেশের বর্তমান রাজধানীর নাম হল —
১.৯ কাশ্মীরে অবস্থিত হিমালয়ের পর্বতমালাটি হল —
১.১০ স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হল —
১.১১ ভারতে শুদ্ধ গ্রীষ্মকালে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে বলে —
১.১২ ভারতের ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের একটি উদাহরণ হল —
১.১৩ ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত —
১.১৪ উপগ্রহ চিত্রে গভীর অরণ্য যে রং-এর সাহায্যে দেখানো হয় —
২.১ নিম্নলখিত বাক্য গুলি শুদ্ধ হলে “শু” অশুদ্ধ হলে “অ” লেখ (যেকোনো ৬ টি)
২.১.১ বিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড তির্যক বালিয়াড়িকে ‘বার্খান’ নামকরণ করেছেন।
২.১.২ মেসোস্ফিয়ার স্তরে উষ্ণতার বৃদ্ধি উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে হয়।
২.১.৩ জেট বায়ু জিওস্ট্রপিক বায়ুর একটি উদাহরণ।
২.১.৪ পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য ও চন্দ্রের সমকোণিক অবস্থানকে সিজিগি বলে।
২.১.৫ ভারতের সর্বনিম্ন জনবহুল রাজ্য হল গোয়া।
২.১.৬ উপকূল অঞ্চলে লবণাক্ত মৃত্তিকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে ওঠে।
২.১.৭ উপগ্রহ চিত্রগুলি স্কেল অনুসারে তৈরি করা হয় না।
২.২ উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো (যে কোনো ছয়টি)
২.২.১ অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতা ______ হয়।
২.২.২ মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত সমভূমিকে ______ বলে।
২.২.৩ কোনো স্থানের উষ্ণতা-বৃষ্টিপাত লেখচিত্রে উষ্ণতার রেখাটি বছরের মধ্যভাগে নিম্নমুখী হলে স্থানটি ______ গোলার্ধে অবস্থিত।
২.২.৪ ______ জোয়ার মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদস্থানে একই সময়ে তৈরি হয়।
২.২.৫ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বায়ুমণ্ডলে ______ গ্যাস নির্গত করে।
২.২.৬ আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত তৃণভূমিকে ______ বলে।
২.২.৭ জৈব বর্জ্য পদার্থগুলির জীবাণু দ্বারা বিয়োজন পদ্ধতিকে ______ বলে।
২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাওঃ
২.৩.১ নদীর জলপ্রবাহ মাপার এককের নাম লেখো।
২.৩.২ সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত শতাংশ ?
২.৩.৩ মেরু অঞ্চল থেকে কোন ধরনের সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় ?
২.৩.৪ মানব শরীরে কোন বিষাক্ত বর্জ্যের উপস্থিতিতে মিনামাটা রোগ হয় ?
২.৩.৫ ভারতের সর্বাধিক জলসেচ পদ্ধতির নাম লেখো।
২.৩.৬ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু কোথায় বৃষ্টিপাত ঘটায় ?
২.৩.৭ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে ভারতের স্থান কী ?
২.৩.৮ ভূ-বৈচিত্রসূচক মানচিত্রে কোন রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয় ?
২.৪ বামদিকের সঙ্গে ডানদিকের গুলি মিলিয়ে লেখঃ
| বামদিক | ডানদিক |
|---|---|
| (২.৮.১) ছোটনাগপুর | ৩. পরেশনাথ পাহাড় |
| (২.৮.২) আসাম | ৪. বরদৈচিলা |
| (২.৮.৩) হিমালয় | ১. পাইন |
| (২.৮.৪) চিকমাগালুর | ২. কফি |
৩. নিচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাওঃ
৩.১ মহাদেশীয় হিমবাহ কাকে বলে ?
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
বিস্তার: এটি পৃথিবীর বৃহত্তম হিমবাহ। এটি কোনো নির্দিষ্ট উপত্যকায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
পুরুত্ব: এই হিমবাহ কয়েক হাজার মিটার পুরু হতে পারে। এর গভীরতা এতটাই বেশি যে এর নিচে পাহাড়-পর্বত সব ঢাকা পড়ে যায় (মাঝে মাঝে চূড়াগুলো বেরিয়ে থাকে, যাদের নুনাটাকস বলে)।
গতি: এর চলন সাধারণত কেন্দ্র থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার মতো হয়।
উদাহরণ: অ্যান্টার্কটিকা এবং গ্রিনল্যান্ড হলো মহাদেশীয় হিমবাহের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের প্রায় ৯৮% অংশ এই হিমবাহে ঢাকা।
অথবা) মরু সম্প্রসারণের সংজ্ঞা দাও।
- অতিরিক্ত পশুচারণ: তৃণভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে মাটির ওপরের স্তর আলগা হয়ে যায়।
- অরণ্য বিনাশ: গাছপালা কাটার ফলে মাটির আর্দ্রতা কমে এবং ভূমিক্ষয় বাড়ে।
- অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ: মাটির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং রাসায়নিক সার প্রয়োগ।
- জলবায়ু পরিবর্তন: দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা।
৩.২ ক্যাটাবেটিক বায়ু কাকে বলে?
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সময়: এই বায়ু সাধারণত রাতের বেলা প্রবাহিত হয়।
প্রকৃতি: এই বায়ু অত্যন্ত শীতল, শুষ্ক এবং ঘন হয়।
প্রভাব: এর প্রভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বা উপত্যকায় তাপমাত্রা অনেক কমে যায়, যার ফলে মাঝে মাঝে কুয়াশা বা তুষারপাত ঘটে।
অথবা) আন্তঃক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল (ITCZ) বলতে কী বোঝো?
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
নিম্নচাপ বলয়: এই অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে বায়ু অত্যন্ত উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়, ফলে এখানে একটি স্থায়ী নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়।
শান্ত বলয় (Doldrums): এখানে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ প্রায় থাকে না বললেই চলে, কেবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুস্রোত দেখা যায়। তাই একে ‘নিরক্ষীয় শান্ত বলয়’ বা ‘ডোলড্রামস’ও বলা হয়।
আবহাওয়া: উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ওপরে উঠে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়, যার ফলে এই অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত (পরিচলন বৃষ্টি) ঘটে।
স্থান পরিবর্তন: সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে এই অঞ্চলটি উত্তর ও দক্ষিণে সরে যায়। এটি মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৩.৩ চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্যের সংজ্ঞা দাও।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
প্রকৃতি: এই বর্জ্যগুলো সাধারণ বর্জ্যের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক এবং বিপজ্জনক হয়ে থাকে।
বিভাগ: এগুলো মূলত তিন ধরনের হয়— ১. কঠিন বর্জ্য: প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ, তুলো, মাস্ক। ২. তীক্ষ্ণ বর্জ্য: ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সূঁচ, ভাঙা কাঁচ, ব্লেড। ৩. জৈব বর্জ্য: কাটা অংশ, রক্ত, কফ ইত্যাদি।
প্রভাব: এই বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে হেপাটাইটিস, এইডস (AIDS)-এর মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ছড়াতে পারে এবং জল ও মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হতে পারে।
অথবা) বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় ভরাটকরণ বলতে কী বোঝো?
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
স্তরবিন্যাস: প্রথমে বর্জ্যের একটি স্তর দেওয়া হয়, তারপর তার ওপর মাটি বা বালির আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় যাতে দুর্গন্ধ ও মাছি ছড়াতে না পারে।
স্যানিটারি ল্যান্ডফিল: আধুনিক পদ্ধতিতে এই গর্তের নিচে প্লাস্টিক বা চট বিছিয়ে দেওয়া হয় যাতে বর্জ্যের বিষাক্ত জল (লিচেট) চুঁইয়ে ভূগর্ভস্থ জল দূষিত না করে। একে ‘স্যানিটারি ল্যান্ডফিল’ বলে।
গ্যাসের উৎপত্তি: এই পদ্ধতিতে বর্জ্য পচনের ফলে মিথেন ($CH_4$) গ্যাসের সৃষ্টি হয়, যা জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
গুরুত্ব: এই প্রক্রিয়ার শেষে ওই নিচু জমিটি ভরাট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেখানে পার্ক বা খেলার মাঠ তৈরি করা সম্ভব হয়।
৩.৪ খাদার কী?
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
উর্বরতা: প্রতি বছর নতুন পলি জমার কারণে এই মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী।
গঠন: খাদার মাটি সাধারণত হালকা রঙের হয় এবং এতে বালির ভাগ বেশি থাকে।
অবস্থান: এটি নদীর খুব কাছে নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যাপ্লাবিত হয়।
গুরুত্ব: উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিস্তীর্ণ অংশে খাদার দেখা যায়। পাঞ্জাবে এই নবীন পলিগঠিত সমভূমিকে স্থানীয় ভাষায় ‘বেট’ (Bet) বলা হয়।
অথবা) কারেওয়া বলতে কী বোঝো?
৩.৫ মৃত্তিকা ক্ষয়ের সংজ্ঞা দাও।
প্রধান কারণসমূহ:
প্রাকৃতিক কারণ: প্রবল বৃষ্টিপাত (শীট ক্ষয় বা নালি ক্ষয়), তীব্র বায়ুপ্রবাহ (মরু অঞ্চলে) এবং খাড়া ঢালু ভূপ্রকৃতি।
মনুষ্যসৃষ্ট কারণ: নির্বিচারে বৃক্ষছেদন, অতিরিক্ত পশুচারণ, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং পাহাড়ের ঢালে জুম চাষ।
প্রভাব:
মাটির উপরিভাগের পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যাওয়ায় জমির উর্বরতা হ্রাস পায়।
নদী বা জলাশয়ের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
অথবা) জনঘনত্ব বলতে কী বোঝো?
\text{জনঘনত্ব} = \frac{\text{ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা}}{\text{ওই অঞ্চলের মোট জমির আয়তন}}
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
একক: এটি সাধারণত প্রতি বর্গকিলোমিটারে (ব্যক্তি/বর্গকিমি) প্রকাশ করা হয়।
গুরুত্ব: কোনো অঞ্চলের জমির ওপর জনসংখ্যার প্রকৃত চাপ কতটুকু, তা জনঘনত্বের মাধ্যমে বোঝা যায়।
বিচিত্রতা: ভারতের মধ্যে বিহারে জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং অরুণাচল প্রদেশে সবচেয়ে কম।
মিলিয়ন শিটে ব্যবহৃত RF (Representative Fraction) এবং মেট্রিক স্কেলের উল্লেখ করো।
RF (Representative Fraction): মিলিয়ন শিটের আর.এফ হলো 1 : 1,000,000
মেট্রিক স্কেল (Metric Scale): এই মানচিত্রে মেট্রিক স্কেল অনুযায়ী 1 সেমি দূরত্ব ভূমির 10 কিমি দূরত্বকে নির্দেশ করে।
অথবা) ভারতের জরিপ সংস্থার (Survey of India) ও ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) সদর দপ্তরগুলি কোথায় অবস্থিত?
ভারতের জরিপ সংস্থা (Survey of India): এই প্রাচীনতম জরিপ সংস্থার সদর দপ্তর উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুন-এ অবস্থিত। এটি মূলত ভারতের মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের কাজ করে।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO): ইসরো-র সদর দপ্তর কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু-তে অবস্থিত। একে ‘অন্তরীক্ষ ভবন’ বলা হয়। এটি ভারতের মহাকাশ অভিযান ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রধান কেন্দ্র।
৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়):
৪.১ জুগ্যান ও ইয়ার্দাং-এর মধ্যে পার্থক্য তুমি কিভাবে নিরূপণ করবে?
| পার্থক্যের বিষয় | জুগান (Zeugen) | ইয়ার্ডাং (Yardang) |
|---|---|---|
| শিলার অবস্থান | কঠিন ও কোমল শিলার অনুভূমিকভাবে (একটির উপর আরেকটি) অবস্থান করে। | কঠিন ও কোমল শিলার উল্লম্বভাবে (পাশাপাশি) অবস্থান করে। |
| আকৃতি | এটি দেখতে অনেকটা চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত টেবিল বা দোয়ারের মতো। | এটি দেখতে অনেকটা উঁচুনিচু নৌকার মতো বা দীর্ঘ শেলফের মতো। |
| ক্ষয়ের প্রকৃতি | কোমল শিলা অধিক ক্ষয়ে গিয়ে খাদ্যের সৃষ্টি করে এবং ওপরের কঠিন শিলাটি টেবিলের মতো থেকে যায়। | কোমল শিলা দ্রুত অপসারিত হয়ে দীর্ঘ গহ্বর তৈরি করে এবং কঠিন শিলাগুলি সুচালো শিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। |
| উচ্চতা | এদের উচ্চতা সাধারণত অনেক বেশি হয় (প্রায় ৩০–৮০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে)। | এদের উচ্চতা জুগানের তুলনায় কম হয় (সাধারণত ৬–১৫ মিটার)। |
অথবা) সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর যে কোনো তিনটি পার্থক্য বিবৃত করো।
| পার্থক্যের বিষয় | সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) | স্থলবায়ু (Land Breeze) |
|---|---|---|
| প্রবাহের সময় | এই বায়ু প্রধানত দিনের বেলা (বিশেষ করে বিকেলে) প্রবাহিত হয়। | এই বায়ু প্রধানত রাতের বেলা (বিশেষ করে শেষ রাতে) প্রবাহিত হয়। |
| প্রবাহের দিক | এটি সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। | এটি স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। |
| বায়ুর প্রকৃতি | সমুদ্র থেকে আসায় এই বায়ু শীতল ও আর্দ্র হয়। | স্থলভাগ থেকে আসায় এই বায়ু শুষ্ক এবং দিনের তুলনায় শীতল হলেও সমুদ্রবায়ুর মতো আর্দ্র নয়। |
৪.২ শিল্প বর্জ্যের উৎস ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করো।
আধুনিক সভ্যতায় শিল্পায়ন অপরিহার্য হলেও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। এই সমস্ত দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থগুলোকেই সম্মিলিতভাবে শিল্প বর্জ্য (Industrial Waste) বলা হয়।
শিল্প বর্জ্যের উৎস:
১) রাসায়নিক ও সার শিল্প: সার, কীটনাশক এবং ডিটারজেন্ট কারখানা থেকে অ্যাসিড, ক্ষার ও নানাবিধ বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়।
২) ধাতু ও আকরিক শিল্প: লৌহ-ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প থেকে ধোঁয়া, পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু নির্গত হয়।
৩) বস্ত্র ও চামড়া শিল্প: চামড়া পাকা করার প্রক্রিয়ায় (Tanning) ট্যানিক অ্যাসিড এবং বস্ত্র শিল্পের রং মিশ্রিত বিষাক্ত রাসায়নিক জল।
৪) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: কয়লা দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) এবং সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
৫) পেট্রোরসায়ন শিল্প: খনিজ তেল শোধনাগার থেকে নির্গত তেলজাতীয় বর্জ্য ও বিভিন্ন পলিমার অবশিষ্টাংশ।
শিল্প বর্জ্যের প্রভাব:
(ক) জলদূষণ: কারখানার তরল বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে মিশলে জল বিষাক্ত হয়, যার ফলে ‘ইউট্রোফিকেশন’ ঘটে এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়।
(খ) বায়ুদূষণ: চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা (SPM) বায়ুমণ্ডলে মিশে ধোঁয়াশা ও অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে।
(গ) মাটিদূষণ: ভারী ধাতুযুক্ত বর্জ্য মাটিতে মিশলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিষাক্ত উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করে (Biomagnification)।
(ঘ) মানবস্বাস্থ্যের বিপর্যয়: শিল্প বর্জ্যের প্রভাবে ফুসফুসের রোগ, চর্মরোগ, এমনকি জাপানের ‘মিনামাটা’ বা ‘ইটাই-ইটাই’ এর মতো ভয়াবহ রোগ দেখা দিতে পারে।
(ঙ) বিশ্ব উষ্ণায়ন: গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
শিল্পোন্নয়নকে সচল রেখে পরিবেশ বাঁচাতে হলে ৩-আর (3R) পদ্ধতি প্রয়োগ, বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (ETP) স্থাপন এবং পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগ একান্ত আবশ্যক।
অথবা) বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর ভূমিকা (যে কোনো তিনটি) উল্লেখ করো।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি দূষণমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীরা নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে:
১) ৩-আর (3R) পদ্ধতির প্রয়োগ :
শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল মন্ত্র ‘Reduce’ (বর্জ্য হ্রাস), ‘Reuse’ (পুনর্ব্যবহার) এবং ‘Recycle’ (পুনশ্চক্রীকরণ)-কে কাজে লাগাতে পারে। যেমন— প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে চটের ব্যাগ ব্যবহার করা (Reduce), পুরনো কাঁচের বোতল বা ডাব্বাকে কলমদানি হিসেবে ব্যবহার করা (Reuse) এবং পুরনো খাতা বা নিউজপেপারকে পুনরায় মণ্ড তৈরির জন্য সংগ্রহ করা (Recycle)।
২) উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ :
বিদ্যালয় এবং বাড়িতে শিক্ষার্থীরা বর্জ্যকে দুটি আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। পচনশীল বর্জ্য (শাকসবজির খোসা, খাবার) ও অপচনশীল বর্জ্য (প্লাস্টিক, ভাঙা কাঁচ, ধাতব টুকরো) আলাদা ডাস্টবিনে ফেলার মাধ্যমে তারা বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও বৈজ্ঞানিক করে তুলতে পারে।
৩) সচেতনতা ও প্রচার অভিযান :
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্লাবে যুক্ত হয়ে বা পাড়ায় পথনাটিকা, পোস্টার এবং প্রচারপত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বর্জ্যের কুফল ও সঠিক নিষ্কাশন পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে পারে। এছাড়া তারা বিদ্যালয় চত্বরে ‘প্লাস্টিক মুক্ত অঞ্চল’ গড়ে তোলার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারে।
শিক্ষার্থীরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই অভ্যাসগুলো রপ্ত করে, তবে তা সমাজ ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৪.৩ ভারতের পূর্বঘাট এবং পশ্চিমঘাটের পার্থক্য লেখো।
| পার্থক্যের বিষয় | পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (সহ্যাদ্রি) | পূর্বঘাট পর্বতমালা (মেলঘাট) |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | ভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর আরব সাগরের সমান্তরালে অবস্থিত। | ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর বঙ্গোপসাগরের সমান্তরালে অবস্থিত। |
| ২. ধারাবাহিকতা | এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণি, যা কেবল গিরিপথ (যেমন—পালঘাট) দ্বারা ছিন্ন। | এটি গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত পর্বতশ্রেণি। |
| ৩. উচ্চতা | গড় উচ্চতা বেশি (প্রায় ৯০০–১৬০০ মিটার)। উত্তর থেকে দক্ষিণে উচ্চতা বাড়ে। | গড় উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় ৫০০ মিটার)। |
| ৪. সর্বোচ্চ শৃঙ্গ | এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো আনাইমুদি (২৬৯৫ মিটার)। | এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো জিন্দাগাদা (১৫৯০ মিটার)। |
| ৫. ঢাল | পশ্চিম ঢাল অত্যন্ত খাড়া এবং পূর্ব ঢাল ধীরে ধীরে মালভূমিতে মিশে গেছে। | এর ঢাল সাধারণত মৃদু ও অসমতল। |
| ৬. বৃষ্টিপাত | মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পশ্চিম ঢালে প্রচুর শৈলবৃষ্টি হয়। | উচ্চতা কম ও বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম। |
অথবা) ভারতে অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অটোমোবাইল উৎপাদনকারী দেশ। প্রধানত গুরগাঁও-মানেসর, পুণে, চেন্নাই এবং জামশেদপুরকে কেন্দ্র করে এই শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। এই অভাবনীয় উন্নতির প্রধান কারণগুলি হলো:
১) কাঁচামালের সহজলভ্যতা:
মোটরগাড়ি তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো ইস্পাত, যা ভারতের টাটা স্টিল বা সেল (SAIL) থেকে সহজে পাওয়া যায়। এছাড়া টায়ার তৈরির জন্য রাবার (কেরল থেকে), কাচ, ব্যাটারি এবং প্লাস্টিক শিল্পের প্রাচুর্য এই শিল্পের ভিত্তি মজবুত করেছে।
২) ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বাজার:
ভারতের বিশাল জনসংখ্যা এবং দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দু-চাকা এবং চার-চাকা যানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা তুঙ্গে। এছাড়া ভারতের তৈরি গাড়ি বর্তমানে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
৩) সরকারি নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ:
ভারত সরকারের ‘Make in India’ প্রকল্প এবং ১০০% সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর অনুমতি এই শিল্পে বিপ্লব এনেছে। মারুতি-সুজুকি, হুন্ডাই, টয়োটা ও বিএমডব্লিউ-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলি ভারতে তাদের উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করেছে।
৪) উন্নত অবকাঠামো ও পরিবহন:
জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন— সোনালী চতুর্ভুজ) এবং লজিস্টিক পার্ক তৈরির ফলে কাঁচামাল আনা এবং উৎপাদিত গাড়ি বাজারে পাঠানো সহজ হয়েছে। মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতা বন্দরের সান্নিধ্য রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা দেয়।
৫) দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক:
ভারতে প্রচুর পরিমাণে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদ যেমন রয়েছেন, তেমনি স্বল্প মজুরিতে কাজ করার মতো সাধারণ শ্রমিকেরও অভাব নেই। ফলে উন্নত দেশের তুলনায় ভারতে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়।
৬) প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ:
পুনে, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলোতে উন্নত গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কেন্দ্র গড়ে ওঠায় বর্তমানে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান (EV) উৎপাদনে ভারত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
উপরে উল্লিখিত কারণগুলির প্রভাবেই চেন্নাই আজ ‘ভারতের ডেট্রয়েট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে।
৪.৪ ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র এবং উপগ্রহ চিত্রের যে কোনো তিনটি পার্থক্য লেখো।
| পার্থক্যের বিষয় | ভূ-রৈখিকসূচক মানচিত্র | উপগ্রহ চিত্র |
|---|---|---|
| ১. প্রকৃতি ও উৎস | এটি নির্দিষ্ট স্কেল, অভিক্ষেপ ও চিহ্নের সাহায্যে সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রস্তুত করা একটি মানচিত্র। | এটি কৃত্রিম উপগ্রহে অবস্থিত সেন্সরের মাধ্যমে সংগৃহীত ভূ-পৃষ্ঠের ডিজিটাল আলোকচিত্র। |
| ২. তথ্য সংগ্রহের সময় | এটি প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে, তাই এতে অনেক পুরোনো তথ্য থেকে যেতে পারে। | এটি অত্যন্ত দ্রুত সংগ্রহ করা যায় এবং নিয়মিত বিরতিতে আপডেট করা সম্ভব (Real-time data)। |
| ৩. উপস্থাপন পদ্ধতি | এখানে রেখা, বিন্দু, প্রতীক ও প্রচলিত রঙের (Conventional Signs) সাহায্যে তথ্য দেখানো হয়। | এখানে পিক্সেলের মাধ্যমে প্রাপ্ত ডিজিটাল মান বা রঙের ছটা (False Colour Composite) ব্যবহার করা হয়। |
দূর সংবেদন (Remote Sensing) ব্যবস্থার সুবিধাগুলি উল্লেখ করো।
দূর সংবেদন ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলি হলো:
১) দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ: গভীর অরণ্য, উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বা দুর্গম মেরু অঞ্চলের মতো যেসব জায়গায় মানুষের পক্ষে সরাসরি যাওয়া সম্ভব নয়, দূর সংবেদনের মাধ্যমে সেইসব অঞ্চলের নিখুঁত তথ্য ও চিত্র সংগ্রহ করা যায়।
২) এক নজরে বৃহৎ এলাকার পর্যবেক্ষণ: উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের অনেক বড় এলাকার তথ্য একই সঙ্গে সংগ্রহ করা যায়, যা সাধারণ মানচিত্রে সম্ভব নয়। এটি নগর পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে।
৩) দ্রুত তথ্য প্রাপ্তি ও আপডেট: এই ব্যবস্থায় অত্যন্ত দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়। উপগ্রহগুলি নিয়মিত বিরতিতে একই অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায় বলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো (যেমন— বনভূমি হ্রাস বা নগরায়ণ) সহজেই বোঝা যায়।
৪) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দিতে এবং দুর্যোগের পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
৫) নির্ভুল ও ডিজিটাল তথ্য: কম্পিউটার বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে এই তথ্যের নির্ভুলতা অনেক বেশি থাকে এবং একে সহজেই অন্য সফটওয়্যারে (যেমন— GIS) ব্যবহার করা যায়।
উপসংহার: বর্তমানে কৃষি, প্রতিরক্ষা, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে দূর সংবেদন ব্যবস্থা এক অপরিহার্য প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে।
দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থী দের জন্য রেখাচিত্র আবশ্যক নয়ঃ
৫.১ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
৫.১.১ নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
৫.১.২ বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
৫.১.৩ পরিচলিত বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
৫.১.৪ জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
৫.২ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
৫.২.১ ভারতের জলবায়ুর পাঁচটি প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা আলোচনা করো।
১. হিমালয় পর্বতমালার অবস্থান:
জলবায়ুতে হিমালয়ের প্রভাব দ্বিমুখী। প্রথমত, এটি উত্তর দিক থেকে আগত মধ্য এশিয়ার অতি শীতল বায়ুকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে ভারত তীব্র শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে বাধা পেয়ে সমগ্র উত্তর ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
২. অক্ষাংশগত অবস্থান:
কর্কটক্রান্তি রেখা (23 Degree উত্তর) ভারতের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে ভারতের দক্ষিণভাগ ‘উষ্ণ ক্রান্তীয়’ অঞ্চলের অন্তর্গত এবং উত্তরভাগ ‘নাতিশীতোষ্ণ’ মণ্ডলে অবস্থিত। এই কারণে দক্ষিণ ভারতে সারা বছর তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং উত্তর ভারতে ঋতুভেদে তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
৩. মৌসুমি বায়ুর প্রভাব:
ভারতের জলবায়ুর সবথেকে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক হলো মৌসুমি বায়ু। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে এসে দেশে বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু স্থলভাগ থেকে আসায় আবহাওয়া শুষ্ক ও শীতল থাকে। ভারতের কৃষি ও অর্থনীতি মূলত এই মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর নির্ভরশীল।
৪. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
ভারতের দক্ষিণ দিক তিনভাগ সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। সমুদ্রের প্রভাবে ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে (যেমন— মুম্বাই, চেন্নাই) সারাবছর সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অভ্যন্তর ভাগের অঞ্চলগুলিতে (যেমন— দিল্লি, রাজস্থান) গ্রীষ্মে চরম গরম এবং শীতে চরম ঠান্ডা বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়।
৫. উচ্চতার প্রভাব:সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে 6.4 Degree Celcius তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এই কারণে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সমতলভূমির তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের (যেমন— সিমলা, দার্জিলিং) জলবায়ু অনেক বেশি শীতল ও আরামদায়ক হয়।
উপরে উল্লিখিত প্রাকৃতিক কারণগুলি ছাড়াও বর্তমানে এল-নিনো (El-Nino), জেট বায়ু এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন ভারতের জলবায়ুকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।
৫.২.২ ভারতের চা উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।
১. জলবায়ু: চা মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। এর জন্য বিশেষ জলবায়ুর প্রয়োজন—
উষ্ণতা: চা চাষের জন্য গড়ে 20 Degree Celcius থেকে 30 Degree Celcius তাপমাত্রা আদর্শ। 10 Degree Celcius -এর নিচে তাপমাত্রা নেমে গেলে চা গাছের ক্ষতি হয়।
বৃষ্টিপাত: প্রচুর বৃষ্টিপাত চা চাষের প্রধান শর্ত। বার্ষিক ১৫০ সেমি থেকে ২৫০ সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। তবে বৃষ্টির জল গাছের গোড়ায় জমে থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আর্দ্রতা ও কুয়াশা: সকালের কুয়াশা ও আর্দ্র আবহাওয়া চা পাতার কোমলতা এবং সুগন্ধ বজায় রাখতে সাহায্য করে। সরাসরি প্রখর সূর্যালোক চায়ের ক্ষতি করে বলে চা বাগানে ছায়া প্রদানকারী বড় গাছ লাগানো হয়।
২. মৃত্তিকা:চা চাষের জন্য লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ মিশ্রিত উর্বর দোঁআশ মাটি সবচেয়ে ভালো। এছাড়া মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ (Humus) এবং নাইট্রোজেন থাকা জরুরি। মাটি সামান্য অম্লধর্মী হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৩. ভূপ্রকৃতি:চা গাছের গোড়ায় জল জমলে শিকড় পচে গাছ মারা যায়। তাই পাহাড়ের ঢালু জমি চা চাষের জন্য শ্রেষ্ঠ, যেখান থেকে বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে যেতে পারে। এই কারণেই ভারতের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের পার্বত্য ঢালে চা বাগানগুলি গড়ে উঠেছে।
৪. উচ্চতা:উচ্চতা চায়ের গুণমান নির্ধারণ করে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার থেকে ২০০০ মিটার উচ্চতায় উৎপাদিত চা (যেমন— দার্জিলিং চা) বিশ্ববিখ্যাত স্বাদ ও সুগন্ধযুক্ত হয়।
ভারতের উত্তর-পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশ (আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ) এবং দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে উপরোক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের শ্রেষ্ঠ সমন্বয় দেখা যায় বলেই ভারত উন্নত মানের চা উৎপাদনে সক্ষম।
৫.২.৩ পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি আলোচনা করো।
ভারতের অধিকাংশ বড় লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্রগুলি (যেমন— টাটা স্টিল, ভিলাই, দুর্গাপুর, রাউরকেল্লা) পূর্ব ও মধ্য ভারতে অবস্থিত। এই কেন্দ্রীভবনের প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: লৌহ-ইস্পাত একটি ‘বিশুদ্ধ কাঁচামাল’ ভিত্তিক শিল্প নয়, তাই এটি খনিজ উৎসের কাছে গড়ে ওঠে।
লৌহ আকরিক: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, ঝাড়খণ্ডের সিংভূম এবং ছত্তিশগড়ের বৈলাডিলা খনি থেকে উচ্চমানের আকরিক লোহা পাওয়া যায়।
কয়লা: ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া, বোকারো এবং পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ খনি থেকে উন্নত মানের কোকিং কয়লা পাওয়া যায়।
অন্যান্য খনিজ: গাঙ্গেয় সমভূমি ও সংলগ্ন মালভূমি অঞ্চল থেকে চুনাপাথর, ডলোমাইট ও ম্যাঙ্গানিজ সহজেই সংগৃহীত হয়।
২. পর্যাপ্ত জলসম্পদ:
এই শিল্পে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। দামোদর, সুবর্ণরেখা, মহানদী, ব্রাহ্মণী ও খড়কাই নদীর জল এই কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ নিশ্চিত করে। এছাড়া ডিভিসি (DVC)-এর মতো নদী উপত্যকা প্রকল্পগুলিও জল সরবরাহে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৩. বিদ্যুৎ শক্তি:
নিকটবর্তী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (যেমন— মেজিয়া, পত্রাতু) এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (যেমন— মাইথন, পাঞ্চেত) থেকে এই শিল্পে প্রয়োজনীয় সস্তা ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যায়।
৪. উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা:
দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব রেলওয়ের ঘন জালের মাধ্যমে খনি থেকে কাঁচামাল কারখানায় আনা এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো খুব সহজ। এছাড়া ২ নং ও ৬ নং জাতীয় সড়ক এই অঞ্চলে সংযোগ রক্ষা করে।
৫. কলকাতা বন্দরের সান্নিধ্য:
কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি এবং উৎপাদিত ইস্পাত বিদেশে রপ্তানি করার বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।
৬. শ্রমিকের সহজলভ্যতা:
বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য হওয়ায় এখানে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় প্রকার সুলভ শ্রমিকের অভাব হয় না।
উপরে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অনুকূল পরিবেশের জন্যই ছোটনাগপুর মালভূমি ও সংলগ্ন অঞ্চল ভারতের ‘লৌহ-ইস্পাত বলয়’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
৫.২.৪ ভারতের জনসংখ্যার অসম বণ্টনের পাঁচটি প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করো।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮২ জন হলেও রাজ্যভেদে এর ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এই অসম বণ্টনের পেছনে প্রধান পাঁচটি প্রাকৃতিক কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ভূপ্রকৃতি:
জনসংখ্যার বণ্টনে ভূপ্রকৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ভারতের উত্তর ও উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল কৃষিকাজ, যাতায়াত এবং শিল্পায়নের উপযোগী হওয়ায় এখানে জনঘনত্ব সর্বাধিক। অপরদিকে, হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল বা উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম ও বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত, ফলে সেখানে জনঘনত্ব অত্যন্ত কম (যেমন— অরুণাচল প্রদেশ)।
২. জলবায়ু:
মানুষ সাধারণত আরামদায়ক ও সমভাবাপন্ন জলবায়ুতে বসবাস করতে পছন্দ করে। উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার জন্য জনবসতি ঘন। কিন্তু রাজস্থানের থর মরুভূমির চরম উষ্ণতা এবং অনাবৃষ্টি অথবা লাদাখের অতি শীতল জলবায়ু মানববসতির প্রতিকূল হওয়ায় এসব অঞ্চলে জনসংখ্যা খুবই বিরল।
৩. মৃত্তিকার উর্বরতা:
ভারতের মতো কৃষিনির্ভর দেশে মৃত্তিকার গুণাগুণ জনসংখ্যার ঘনত্বকে নিয়ন্ত্রণ করে। সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমির উর্বর পলল মৃত্তিকা এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমির উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে এখানে জনঘনত্ব বেশি। এর বিপরীতে রাজস্থানের বালুকাময় মরু মৃত্তিকা বা পার্বত্য অঞ্চলের কাঁকরযুক্ত মৃত্তিকা অঞ্চলে জনবসতি কম।
৪. জলসম্পদের প্রাপ্যতা:
জলই জীবন, তাই প্রাচীনকাল থেকেই নদী উপত্যকাগুলোকে কেন্দ্র করে জনবসতি গড়ে উঠেছে। গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, কৃষ্ণা প্রভৃতি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায় বলে এখানে জনঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে, পশ্চিম রাজস্থানের মতো জলকষ্টযুক্ত অঞ্চলে মানুষ কম বাস করে।
৫. খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য:
উর্বর মৃত্তিকা বা অনুকূল জলবায়ু না থাকলেও কেবল খনিজ সম্পদের টানে অনেক সময় জনঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলে খনি ও খনিজ ভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠায় সেখানে প্রচুর মানুষ বসবাস করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাকৃতিক কারণগুলি প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে পরিবহন ব্যবস্থা, নগরায়ন ও সরকারি নীতির মতো অর্থনৈতিক কারণগুলিও জনসংখ্যা বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৬. প্রশ্নপত্রের সাথে প্রদত্ত ভারতের রেখা-মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি উপযুক্ত প্রতীক ও নামসহ চিহ্নিত করে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাওঃ
অথবা) শুধুমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য।
৬.১ ভারতের বৃহত্তম ব-দ্বীপের নাম লেখো।
৬.২ ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা কোনটি ?
৬.৩ মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত একটি হ্রদের নাম লেখো।
৬.৪ ভারতের কোন দ্বীপপুঞ্জ প্রবাল দ্বারা গঠিত ?
৬.৫ ভারতের বৃহত্তম হিমবাহের নাম লেখো।
৬.৬ ভারতের কোন মৃত্তিকা গেরুয়ার নামে পরিচিত ?
৬.৭ ভারতের কোন রাজ্য হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে ?
৬.৮ কোন শিল্পশহর দক্ষিণ ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার নামে পরিচিত ?
৬.৯ ভারতের একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পের নাম লেখো।
৬.১০ পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানীর নাম লেখো।
৬.১১ সাক্ষরতার হারে ভারতের কোন রাজ্য সর্বাধিক ?
৬.১২ কোন আধুনিক পরিবহনের মাধ্যমে পরিশোধিত খনিজ তেল সহজে পরিবাহিত হয় ?
৬.১৩ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানীর নাম কী ?
৬.১৪ ভারতের ক্ষুদ্রতম বন্দরের নাম লেখো।
আমাদের লক্ষ্য সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করা। তবুও অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে গেলে, আমরা চাই সেটি যেন দ্রুত সংশোধন করা হয়।
যদি উপরের পোস্টটিতে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি খুঁজে পান, অনুগ্রহ করে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার সহযোগিতা আমাদের জন্য অমূল্য — কারণ আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী ভুল শিখুক।
মনে রাখবেন: আপনার দেওয়া ছোট্ট একটি মন্তব্য অনেকের শেখার পথ সঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
