Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের ভূগোল প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। এই পোস্টে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সহজবোধ্য উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে নিতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে করতে পারে। Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26 দ্রুত পুনরাবৃত্তি ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
১. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) পেডিমেন্ট বলতে কী বোঝো?
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
অবস্থান ও ঢাল: এটি ক্ষয়িষ্ণু পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে নিম্ন সমভূমির দিকে বিস্তৃত হয় এবং এর ঢাল সাধারণত ১° থেকে ৭° এর মধ্যে থাকে।
গঠন: পেডিমেন্টের উপরিভাগ পাতলা পলির আস্তরণে ঢাকা থাকলেও এর মূল তলটি শক্ত ও উন্মুক্ত শিলা দ্বারা গঠিত।
উৎপত্তি: ভূবিজ্ঞানী জি. কে. গিলবার্ট (G. K. Gilbert) ১৮৮২ সালে প্রথম ‘পেডিমেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
B) পুরোদেশীয় বাঁধ কাকে বলে?
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
অবস্থান: এই বাঁধটি সরাসরি উপকূলের সাথে যুক্ত থাকে না, বরং উপকূলের কিছুটা দূরে সমুদ্রের জলভাগের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে।
কয়াল/উপহ্রদ সৃষ্টি: মূল উপকূলভাগ এবং পুরোদেশীয় বাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে অনেক সময় জল আবদ্ধ হয়ে ‘কয়াল’ বা ‘উপহ্রদ’ (যেমন— চিল্কা হ্রদ) সৃষ্টি হয়।
স্থায়িত্ব: জোয়ারের সময় এই বাঁধের অধিকাংশ অংশ জলে ডুবে যায় এবং ভাটার সময় দৃশ্যমান হয়।
C) ‘ইন-সিটু’ এবং ‘এক্স-সিটু’ সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
ধারণা: কোনো বিপন্ন জীবপ্রজাতিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে স্বাভাবিক পরিবেশে রেখেই সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়।
উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান (যেমন—করবেট), অভয়ারণ্য (যেমন—জলদাপাড়া) এবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (যেমন—সুন্দরবন)।
২. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ:
ধারণা: কোনো জীবপ্রজাতিকে তার মূল প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম ও নিরাপদ পরিবেশে এনে বিশেষ যত্নে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়।
উদাহরণ: চিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন), জিন ব্যাংক ও বীজ ভাণ্ডার।
D) ‘ঘূর্ণবাতের চক্ষু’ কাকে বলে?
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
বায়ুর অবস্থা: এই অঞ্চলে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া থাকে না, বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত কম ও শান্ত থাকে।
আকাশ ও বৃষ্টিপাত: আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত থাকে এবং কোনো বৃষ্টিপাত হয় না।
বিস্তার ও চাপ: এর ব্যাস সাধারণত ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হয় এবং এখানেই ঘূর্ণবাতের সর্বনিম্ন বায়ুপাত লিপিবদ্ধ করা হয়।
২. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) কাম্য জনসংখ্যা বলতে কী বোঝো?
B) মানব দারিদ্র্য সূচক কী?
C) ইমিগ্রেশন ও এমিগ্রেশনের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।
২. পার্থক্য: ইমিগ্রেশন হলো আগমনমূলক অভিবাসন, আর এমিগ্রেশন হলো বহির্গমনমূলক অভিবাসন।
D) মানবকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গীর যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
১. মানবকেন্দ্রিকতা: মানুষের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২. সামাজিক সাম্য: সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায়সংগত বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) ভারতের দুটি পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্রের নাম লেখো।
B) স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো?
C) ‘LULC’ ম্যাপ বলতে কী বোঝো?
D) ভারতবর্ষের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের যে-কোনো দুটি সমস্যা উল্লেখ করো।
৪. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
১. বায়ুচাপ: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ থাকে, কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ থাকে।
২. বায়ুর গতিপথ: ঘূর্ণবাতে বায়ু চারদিক থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু কেন্দ্র থেকে চারদিকে প্রবাহিত হয়।
৩. আবহাওয়া: ঘূর্ণবাতের ফলে সাধারণত মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড় হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের ফলে সাধারণত আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।
B) চিত্রসহ অভিসারী পাত সীমানা ও প্রতিসারী পাত সীমানার মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।
১. পাতের গতিবিধি: অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে। প্রতিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়।
২. ভূমিরূপ গঠন: অভিসারী পাত সীমানায় পর্বত, গভীর সমুদ্রখাত ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিসারী পাত সীমানায় মধ্য-মহাসাগরীয় শৈলশিরা ও নতুন ভূত্বক গঠিত হয়।
চিত্র:
C) ফিয়র্ড উপকূল কিভাবে গঠিত হয় চিত্রসহ সংক্ষেপে লেখো।
চিত্র:
D) নদীর পুনর্যৌবন লাভ কী? এটির বিভিন্ন ধরনগুলি উল্লেখ করো।
নদীর পুনর্যৌবন লাভের ধরনগুলি হল—
১. পূর্ণ পুনর্যৌবন: ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নদীর ঢাল বৃদ্ধি পেয়ে নদী পুনরায় ক্ষয়কার্য শুরু করলে তাকে পূর্ণ পুনর্যৌবন বলে।
২. আংশিক পুনর্যৌবন: ভূমির কিছু অংশের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে নদীর নির্দিষ্ট অংশে ক্ষয়কার্য বৃদ্ধি পায়। একে আংশিক পুনর্যৌবন বলে।
৩. আপেক্ষিক পুনর্যৌবন: নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধি বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাসের ফলে নদীর ক্ষয়কার্য বৃদ্ধি পেলে তাকে আপেক্ষিক পুনর্যৌবন বলে।
৫. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) ম্যালথাস প্রদত্ত ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ তত্ত্বটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
১. জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২ ইত্যাদি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
২. গাণিতিক হারে খাদ্য উৎপাদন: খাদ্য উৎপাদন ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
৩. জনসংখ্যা ও খাদ্যের অসামঞ্জস্য: জনসংখ্যা খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও দারিদ্র্য দেখা দিতে পারে।
৪. নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যালথাস নৈতিক সংযম, বিলম্বিত বিবাহ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন।
উপসংহার: ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় না থাকলে মানবসমাজে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।
B) জনঘনত্ব ও মানুষ-জমির অনুপাতের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
১. সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাকে জনঘনত্ব বলে। অন্যদিকে, মোট জনসংখ্যা ও মোট কৃষিজমির অনুপাতকে মানুষ-জমির অনুপাত বলে।
২. হিসাবের ভিত্তি: জনঘনত্ব নির্ণয়ে মোট ভূমির পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। মানুষ-জমির অনুপাত নির্ণয়ে কেবল কৃষিজমির পরিমাণ বিবেচনা করা হয়।
৩. একক: জনঘনত্ব সাধারণত প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়। মানুষ-জমির অনুপাত সাধারণত প্রতি একক কৃষিজমিতে মানুষের সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
C) বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বণ্টনের উপর পরিব্রাজনের তিনটি প্রভাব আলোচনা করো।
১. জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন: পরিব্রাজনের ফলে জনবহুল অঞ্চল থেকে জনবিরল অঞ্চলে মানুষ স্থানান্তরিত হয়। ফলে কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অন্য অঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
২. নগরায়ণ: গ্রাম থেকে শহরে মানুষের পরিব্রাজনের ফলে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং নগরায়ণ ত্বরান্বিত হয়।
৩. জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন: কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার সন্ধানে মানুষের স্থানান্তরের ফলে বিভিন্ন দেশের ও অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনে পরিবর্তন ঘটে।
D) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের তিনটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
১. সম্পদের সুষম বণ্টন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হয়।
২. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
৩. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমলে বনভূমি ধ্বংস, দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হ্রাস পায়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
৬. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের তিনটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
১. প্রাণহানি: বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
২. সম্পদের ক্ষতি: বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গবাদিপশু, ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়।
৩. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: সংঘাতের ফলে বন্যপ্রাণী হত্যা ও তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
B) গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
১. উর্বর মাটি: উর্বর মাটি ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য মানুষ একত্রে বসতি স্থাপন করে।
২. জলপ্রাপ্তির সুবিধা: নদী, পুকুর বা কূপের কাছাকাছি সহজে জল পাওয়া যায় বলে গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠে।
৩. নিরাপত্তা: শত্রুর আক্রমণ, বন্যা বা অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ একত্রে বসবাস করে।
৪. যোগাযোগ ও সামাজিক সুবিধা: রাস্তা, বাজার, বিদ্যালয়, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুবিধার কারণে গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠে।
C) সাম্প্রতিক কালে ভারতে মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের দ্রুত বিকাশের তিনটি কারণ উল্লেখ করো।
১. চাহিদা বৃদ্ধি: মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবহণের চাহিদা বাড়ায় মোটরগাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
২. সরকারি নীতি: সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি, বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি উদ্যোগের ফলে এই শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।
৩. পরিকাঠামোর উন্নয়ন: উন্নত সড়কব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের ফলে মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে।
D) পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ রোধে গৃহীত তিনটি ব্যবস্থা উল্লেখ করো।
১. আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।
২. গভীর নলকূপ ও বিকল্প জল সরবরাহের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল প্রদান করা।
৩. আর্সেনিক অপসারণকারী পরিশোধন যন্ত্রের সাহায্যে দূষিত জল শোধন করা।
৭. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
A) বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট যে কোনো পাঁচটি ভূমিরূপের সচিত্র বর্ণনা দাও।
১. মাশরুম শিলা: বায়ুর সঙ্গে বাহিত বালুকণার ঘর্ষণে শিলার নীচের অংশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে উপরের অংশ চওড়া ও নীচের অংশ সরু হয়ে ছত্রাকের মতো দেখতে যে শিলাস্তম্ভ গঠিত হয়, তাকে মাশরুম শিলা বলে।
২. ইয়ারদাং: বায়ুর প্রবাহের অভিমুখে অবস্থিত নরম শিলাস্তর বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কঠিন শিলাস্তরগুলির মাঝে লম্বা, সরু ও খাঁজকাটা শৈলশিরা সৃষ্টি হলে তাকে ইয়ারদাং বলে।
৩. জিউগেন: অনুভূমিকভাবে সজ্জিত কঠিন ও নরম শিলাস্তরের মধ্যে নরম শিলাস্তর বায়ুর ক্ষয়কার্যে অপসারিত হলে কঠিন শিলাস্তর টেবিলের মতো উঁচু হয়ে অবস্থান করে। এই ভূমিরূপকে জিউগেন বলে।
৪. ইনসেলবার্গ: মরুভূমির বিস্তীর্ণ সমভূমির মধ্যে অবশিষ্ট ক্ষয়প্রতিরোধী কঠিন শিলায় গঠিত বিচ্ছিন্ন, খাড়া ও গম্বুজাকৃতি পাহাড়কে ইনসেলবার্গ বলে।
৫. অপসারণ গর্ত: বায়ুর অপসারণ ও অবঘর্ষণ ক্রিয়ায় মরুভূমির বালুকণা ও সূক্ষ্ম পদার্থ উড়ে গিয়ে ভূমিতে যে অবনমিত গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট বলে।
উপসংহার: বায়ুর অবঘর্ষণ, অপসারণ ও ঘর্ষণজাত ক্ষয়কার্যের ফলে মরুভূমিতে এই সমস্ত ভূমিরূপ গড়ে ওঠে।
B) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি ও বিকাশের পর্যায়গুলি চিত্রসহ আলোচনা করো।
নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের বিকাশের পর্যায়গুলি:
১. প্রাথমিক পর্যায়: মেরু সীমান্তে উষ্ণ ও শীতল বায়ুপুঞ্জ পাশাপাশি অবস্থান করে। এই পর্যায়ে বায়ুপ্রবাহ প্রায় সরলরেখায় থাকে।
২. তরঙ্গায়িত পর্যায়: মেরু সীমান্তে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। উষ্ণ বায়ু মেরুর দিকে এবং শীতল বায়ু নিরক্ষরের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে নিম্নচাপ কেন্দ্র গঠিত হয়।
৩. পরিণত পর্যায়: ঘূর্ণবাতের উষ্ণ ও শীতল ফ্রন্ট সুস্পষ্ট হয়। উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর ওপর উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। এই পর্যায়ে ঘূর্ণবাতের শক্তি সর্বাধিক হয়।
৪. অবক্ষয় পর্যায়: শীতল ফ্রন্ট দ্রুত অগ্রসর হয়ে উষ্ণ ফ্রন্টকে অতিক্রম করলে উষ্ণ বায়ু মাটির সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। একে অক্লুশন বলে। ফলে ঘূর্ণবাত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে বিলুপ্ত হয়।
চিত্র:

