Class 12

Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26 | উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল প্রশ্নপত্র উত্তর সহ

Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26

Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26

উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টারের ভূগোল প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। এই পোস্টে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সহজবোধ্য উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তর মিলিয়ে নিতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে করতে পারে। Class 12 Semester 4 Geography Question Paper with Solution PDF 2025-26 দ্রুত পুনরাবৃত্তি ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

Geography SEM IV

১. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) পেডিমেন্ট বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সংজ্ঞা: শুষ্ক বা মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্য এবং ক্ষয়জাত পদার্থের জলপ্রবাহ (Sheet wash)-এর যৌথ কাজের ফলে পর্বতের পাদদেশে সৃষ্ট মৃদু ঢালযুক্ত, শিলাময় সমতল ভূমিভাগকে পেডিমেন্ট (Pediment) বলা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

অবস্থান ও ঢাল: এটি ক্ষয়িষ্ণু পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে নিম্ন সমভূমির দিকে বিস্তৃত হয় এবং এর ঢাল সাধারণত ১° থেকে ৭° এর মধ্যে থাকে।
গঠন: পেডিমেন্টের উপরিভাগ পাতলা পলির আস্তরণে ঢাকা থাকলেও এর মূল তলটি শক্ত ও উন্মুক্ত শিলা দ্বারা গঠিত।
উৎপত্তি: ভূবিজ্ঞানী জি. কে. গিলবার্ট (G. K. Gilbert) ১৮৮২ সালে প্রথম ‘পেডিমেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

B) পুরোদেশীয় বাঁধ কাকে বলে?

উত্তর: সংজ্ঞা: সমুদ্র তরঙ্গ দ্বারা প্রক্ষিপ্ত বালি, নুড়ি, প্রবাল ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে উপকূল থেকে কিছুটা দূরে, সমুদ্রের ভেতরে উপকূলের প্রায় সমান্তরালে যে দীর্ঘায়িত বাঁধ গড়ে ওঠে, তাকে পুরোদেশীয় বাঁধ (Offshore Bar) বলে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

অবস্থান: এই বাঁধটি সরাসরি উপকূলের সাথে যুক্ত থাকে না, বরং উপকূলের কিছুটা দূরে সমুদ্রের জলভাগের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে।
কয়াল/উপহ্রদ সৃষ্টি: মূল উপকূলভাগ এবং পুরোদেশীয় বাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে অনেক সময় জল আবদ্ধ হয়ে ‘কয়াল’ বা ‘উপহ্রদ’ (যেমন— চিল্কা হ্রদ) সৃষ্টি হয়।
স্থায়িত্ব: জোয়ারের সময় এই বাঁধের অধিকাংশ অংশ জলে ডুবে যায় এবং ভাটার সময় দৃশ্যমান হয়।

C) ‘ইন-সিটু’ এবং ‘এক্স-সিটু’ সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ১. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ:
ধারণা: কোনো বিপন্ন জীবপ্রজাতিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে স্বাভাবিক পরিবেশে রেখেই সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়।

উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান (যেমন—করবেট), অভয়ারণ্য (যেমন—জলদাপাড়া) এবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (যেমন—সুন্দরবন)।

২. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ:
ধারণা: কোনো জীবপ্রজাতিকে তার মূল প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম ও নিরাপদ পরিবেশে এনে বিশেষ যত্নে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়।

উদাহরণ: চিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন), জিন ব্যাংক ও বীজ ভাণ্ডার।

D) ‘ঘূর্ণবাতের চক্ষু’ কাকে বলে?

উত্তর: সংজ্ঞা: শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে অবস্থিত মেঘহীন, শান্ত ও অত্যন্ত নিম্নচাপযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঞ্চলকে ‘ঘূর্ণবাতের চক্ষু’ (Eye of the Cyclone) বলা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

বায়ুর অবস্থা: এই অঞ্চলে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া থাকে না, বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত কম ও শান্ত থাকে।
আকাশ ও বৃষ্টিপাত: আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত থাকে এবং কোনো বৃষ্টিপাত হয় না।
বিস্তার ও চাপ: এর ব্যাস সাধারণত ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হয় এবং এখানেই ঘূর্ণবাতের সর্বনিম্ন বায়ুপাত লিপিবদ্ধ করা হয়।

২. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) কাম্য জনসংখ্যা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে জনসংখ্যা দেশের সর্বাধিক অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাতে পারে, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।

B) মানব দারিদ্র্য সূচক কী?

উত্তর: মানব দারিদ্র্য সূচক (HPI) হলো একটি পরিমাপক, যার সাহায্যে কোনো দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মাত্রা নির্ণয় করা হয়।

C) ইমিগ্রেশন ও এমিগ্রেশনের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তর: ১. ইমিগ্রেশন: কোনো ব্যক্তি অন্য দেশ থেকে এসে একটি দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলে তাকে ইমিগ্রেশন বলে। এমিগ্রেশন: কোনো ব্যক্তি নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে গেলে তাকে এমিগ্রেশন বলে।

২. পার্থক্য: ইমিগ্রেশন হলো আগমনমূলক অভিবাসন, আর এমিগ্রেশন হলো বহির্গমনমূলক অভিবাসন।

D) মানবকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গীর যে-কোনো দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: মানবকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির দুটি বৈশিষ্ট্য হল—

১. মানবকেন্দ্রিকতা: মানুষের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. সামাজিক সাম্য: সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায়সংগত বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৩. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) ভারতের দুটি পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্রের নাম লেখো।

উত্তর: ভারতের দুটি পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র হল—১. হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ) এবং ২. জামনগর (গুজরাট)।

B) স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতা নষ্ট না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।

C) ‘LULC’ ম্যাপ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: LULC-এর পূর্ণরূপ হলো Land Use and Land Cover। কোনো অঞ্চলের জমির ব্যবহার এবং ভূমির আচ্ছাদন, যেমন—কৃষিজমি, বনভূমি, জলাশয় ও বসতিভূমি, চিত্রের মাধ্যমে যে মানচিত্রে দেখানো হয়, তাকে LULC ম্যাপ বলে।

D) ভারতবর্ষের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের যে-কোনো দুটি সমস্যা উল্লেখ করো।

উত্তর: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের দুটি সমস্যা হল—১. পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব। ২. বিদ্যুৎ ও হিমাগারের অভাব।

৪. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—

১. বায়ুচাপ: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ থাকে, কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ থাকে।

২. বায়ুর গতিপথ: ঘূর্ণবাতে বায়ু চারদিক থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু কেন্দ্র থেকে চারদিকে প্রবাহিত হয়।

৩. আবহাওয়া: ঘূর্ণবাতের ফলে সাধারণত মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড় হয়। প্রতীপ ঘূর্ণবাতের ফলে সাধারণত আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে।

B) চিত্রসহ অভিসারী পাত সীমানা ও প্রতিসারী পাত সীমানার মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তর: অভিসারী পাত সীমানা ও প্রতিসারী পাত সীমানার পার্থক্য:

১. পাতের গতিবিধি: অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে। প্রতিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়।

২. ভূমিরূপ গঠন: অভিসারী পাত সীমানায় পর্বত, গভীর সমুদ্রখাত ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিসারী পাত সীমানায় মধ্য-মহাসাগরীয় শৈলশিরা ও নতুন ভূত্বক গঠিত হয়।

চিত্র:
ChatGPT Image Sep 13 2026 05 36 44 PM 1

C) ফিয়র্ড উপকূল কিভাবে গঠিত হয় চিত্রসহ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে উপকূলের পার্বত্য অঞ্চলে গভীর, সংকীর্ণ ও খাড়া পার্শ্বযুক্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে হিমবাহ গলে সমুদ্রের জল ওই উপত্যকায় প্রবেশ করলে যে দীর্ঘ, সরু ও গভীর সমুদ্রখাত গঠিত হয়, তাকে ফিয়র্ড বলে। এইভাবে ফিয়র্ড উপকূল গঠিত হয়।

চিত্র:
ChatGPT Image Sep 13 2026 05 42 30 PM 1

D) নদীর পুনর্যৌবন লাভ কী? এটির বিভিন্ন ধরনগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: নদীর ক্ষয়কার্য কোনো কারণে পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে নদী যখন যৌবন অবস্থার বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তখন তাকে নদীর পুনর্যৌবন লাভ বলে।

নদীর পুনর্যৌবন লাভের ধরনগুলি হল—

১. পূর্ণ পুনর্যৌবন: ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নদীর ঢাল বৃদ্ধি পেয়ে নদী পুনরায় ক্ষয়কার্য শুরু করলে তাকে পূর্ণ পুনর্যৌবন বলে।

২. আংশিক পুনর্যৌবন: ভূমির কিছু অংশের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে নদীর নির্দিষ্ট অংশে ক্ষয়কার্য বৃদ্ধি পায়। একে আংশিক পুনর্যৌবন বলে।

৩. আপেক্ষিক পুনর্যৌবন: নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধি বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাসের ফলে নদীর ক্ষয়কার্য বৃদ্ধি পেলে তাকে আপেক্ষিক পুনর্যৌবন বলে।

৫. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) ম্যালথাস প্রদত্ত ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ তত্ত্বটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ম্যালথাসের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তত্ত্ব: ইংরেজ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ‘An Essay on the Principle of Population’ গ্রন্থে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তত্ত্বটি প্রকাশ করেন।

১. জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২ ইত্যাদি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

২. গাণিতিক হারে খাদ্য উৎপাদন: খাদ্য উৎপাদন ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

৩. জনসংখ্যা ও খাদ্যের অসামঞ্জস্য: জনসংখ্যা খাদ্য উৎপাদনের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও দারিদ্র্য দেখা দিতে পারে।

৪. নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যালথাস নৈতিক সংযম, বিলম্বিত বিবাহ এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন।

উপসংহার: ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় না থাকলে মানবসমাজে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

B) জনঘনত্ব ও মানুষ-জমির অনুপাতের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: জনঘনত্ব ও মানুষ-জমির অনুপাতের মধ্যে তিনটি পার্থক্য হল—

১. সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যাকে জনঘনত্ব বলে। অন্যদিকে, মোট জনসংখ্যা ও মোট কৃষিজমির অনুপাতকে মানুষ-জমির অনুপাত বলে।

২. হিসাবের ভিত্তি: জনঘনত্ব নির্ণয়ে মোট ভূমির পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। মানুষ-জমির অনুপাত নির্ণয়ে কেবল কৃষিজমির পরিমাণ বিবেচনা করা হয়।

৩. একক: জনঘনত্ব সাধারণত প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়। মানুষ-জমির অনুপাত সাধারণত প্রতি একক কৃষিজমিতে মানুষের সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

C) বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বণ্টনের উপর পরিব্রাজনের তিনটি প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বণ্টনের উপর পরিব্রাজনের তিনটি প্রভাব হল—

১. জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন: পরিব্রাজনের ফলে জনবহুল অঞ্চল থেকে জনবিরল অঞ্চলে মানুষ স্থানান্তরিত হয়। ফলে কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অন্য অঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়।

২. নগরায়ণ: গ্রাম থেকে শহরে মানুষের পরিব্রাজনের ফলে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং নগরায়ণ ত্বরান্বিত হয়।

৩. জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন: কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার সন্ধানে মানুষের স্থানান্তরের ফলে বিভিন্ন দেশের ও অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনে পরিবর্তন ঘটে।

D) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের তিনটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।

উত্তর: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের তিনটি প্রয়োজনীয়তা হল—

১. সম্পদের সুষম বণ্টন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হয়।

২. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

৩. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমলে বনভূমি ধ্বংস, দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হ্রাস পায়। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

৬. চারটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের তিনটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।

উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের তিনটি ক্ষতিকারক প্রভাব হল—

১. প্রাণহানি: বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

২. সম্পদের ক্ষতি: বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গবাদিপশু, ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়।

৩. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি: সংঘাতের ফলে বন্যপ্রাণী হত্যা ও তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

B) গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি হল—

১. উর্বর মাটি: উর্বর মাটি ও কৃষিকাজের সুবিধার জন্য মানুষ একত্রে বসতি স্থাপন করে।

২. জলপ্রাপ্তির সুবিধা: নদী, পুকুর বা কূপের কাছাকাছি সহজে জল পাওয়া যায় বলে গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠে।

৩. নিরাপত্তা: শত্রুর আক্রমণ, বন্যা বা অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ একত্রে বসবাস করে।

৪. যোগাযোগ ও সামাজিক সুবিধা: রাস্তা, বাজার, বিদ্যালয়, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুবিধার কারণে গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠে।

C) সাম্প্রতিক কালে ভারতে মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের দ্রুত বিকাশের তিনটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর: ভারতে মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের দ্রুত বিকাশের তিনটি কারণ হল—

১. চাহিদা বৃদ্ধি: মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবহণের চাহিদা বাড়ায় মোটরগাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।

২. সরকারি নীতি: সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি, বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি উদ্যোগের ফলে এই শিল্পের উন্নতি ঘটেছে।

৩. পরিকাঠামোর উন্নয়ন: উন্নত সড়কব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের ফলে মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে।

D) পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ রোধে গৃহীত তিনটি ব্যবস্থা উল্লেখ করো।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ রোধে গৃহীত তিনটি ব্যবস্থা হল—

১. আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।

২. গভীর নলকূপ ও বিকল্প জল সরবরাহের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল প্রদান করা।

৩. আর্সেনিক অপসারণকারী পরিশোধন যন্ত্রের সাহায্যে দূষিত জল শোধন করা।

৭. দুটি প্রশ্নের মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

A) বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট যে কোনো পাঁচটি ভূমিরূপের সচিত্র বর্ণনা দাও।

উত্তর: বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে মরুভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি ভূমিরূপ হল—

১. মাশরুম শিলা: বায়ুর সঙ্গে বাহিত বালুকণার ঘর্ষণে শিলার নীচের অংশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে উপরের অংশ চওড়া ও নীচের অংশ সরু হয়ে ছত্রাকের মতো দেখতে যে শিলাস্তম্ভ গঠিত হয়, তাকে মাশরুম শিলা বলে।

২. ইয়ারদাং: বায়ুর প্রবাহের অভিমুখে অবস্থিত নরম শিলাস্তর বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কঠিন শিলাস্তরগুলির মাঝে লম্বা, সরু ও খাঁজকাটা শৈলশিরা সৃষ্টি হলে তাকে ইয়ারদাং বলে।

৩. জিউগেন: অনুভূমিকভাবে সজ্জিত কঠিন ও নরম শিলাস্তরের মধ্যে নরম শিলাস্তর বায়ুর ক্ষয়কার্যে অপসারিত হলে কঠিন শিলাস্তর টেবিলের মতো উঁচু হয়ে অবস্থান করে। এই ভূমিরূপকে জিউগেন বলে।

৪. ইনসেলবার্গ: মরুভূমির বিস্তীর্ণ সমভূমির মধ্যে অবশিষ্ট ক্ষয়প্রতিরোধী কঠিন শিলায় গঠিত বিচ্ছিন্ন, খাড়া ও গম্বুজাকৃতি পাহাড়কে ইনসেলবার্গ বলে।

৫. অপসারণ গর্ত: বায়ুর অপসারণ ও অবঘর্ষণ ক্রিয়ায় মরুভূমির বালুকণা ও সূক্ষ্ম পদার্থ উড়ে গিয়ে ভূমিতে যে অবনমিত গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট বলে।

উপসংহার: বায়ুর অবঘর্ষণ, অপসারণ ও ঘর্ষণজাত ক্ষয়কার্যের ফলে মরুভূমিতে এই সমস্ত ভূমিরূপ গড়ে ওঠে।

B) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি ও বিকাশের পর্যায়গুলি চিত্রসহ আলোচনা করো।

উত্তর: নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি: দুই বিপরীতধর্মী বায়ুপুঞ্জ—উষ্ণ ক্রান্তীয় বায়ু ও শীতল মেরুবায়ু—মেরু সীমান্ত বরাবর মিলিত হলে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। এই দুই বায়ুপুঞ্জের তাপমাত্রা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে মেরু সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয় এবং ঘূর্ণবাতের বিকাশ ঘটে।

নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের বিকাশের পর্যায়গুলি:

১. প্রাথমিক পর্যায়: মেরু সীমান্তে উষ্ণ ও শীতল বায়ুপুঞ্জ পাশাপাশি অবস্থান করে। এই পর্যায়ে বায়ুপ্রবাহ প্রায় সরলরেখায় থাকে।

২. তরঙ্গায়িত পর্যায়: মেরু সীমান্তে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। উষ্ণ বায়ু মেরুর দিকে এবং শীতল বায়ু নিরক্ষরের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে নিম্নচাপ কেন্দ্র গঠিত হয়।

৩. পরিণত পর্যায়: ঘূর্ণবাতের উষ্ণ ও শীতল ফ্রন্ট সুস্পষ্ট হয়। উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর ওপর উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। এই পর্যায়ে ঘূর্ণবাতের শক্তি সর্বাধিক হয়।

৪. অবক্ষয় পর্যায়: শীতল ফ্রন্ট দ্রুত অগ্রসর হয়ে উষ্ণ ফ্রন্টকে অতিক্রম করলে উষ্ণ বায়ু মাটির সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। একে অক্লুশন বলে। ফলে ঘূর্ণবাত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে বিলুপ্ত হয়।

চিত্র:
ChatGPT Image Sep 13 2026 06 02 58 PM 1

Shares:

Related Posts

Class 12 Semester 3 Philosophy Question Paper with Solution PDF 2025-26
Class 12

Class 12 Semester 3 Philosophy Question Paper with Solution PDF 2025-26 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন প্রশ্নপত্র উত্তর সহ

Class 12 Semester 3 Philosophy Question Paper with Solution PDF 2025-26 উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর তৃতীয় সেমিস্টারের দর্শন প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নপত্র
Class 12 Semester 3 Physics Chapter 01 MCQ Question Answer
Class 12

Class 12 Semester 3 Physics Chapter 01 MCQ Question Answer | উচ্চমাধ্যামিক সেমিস্টার ৩ পদার্থবিদ্যা অধ্যায় ০১ স্থির তড়িৎ বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Class 12 Semester 3 Physics Chapter 01 MCQ Question Answer উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সেমিস্টার ৩ এর পদার্থবিদ্যার প্রথম অধ্যায় স্থির তড়িৎ থেকে বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন (MCQ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এই অধ্যায়ের
Class 12 Semester 3 Biology Chapter 01 MCQ Question Answer
Class 12

Class 12 Semester 3 Biology Chapter 01 MCQ Question Answer | উচ্চমাধ্যামিক সেমিস্টার ৩ জীববিদ্যা অধ্যায় ০১ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন উত্তর

Class 12 Semester 3 Biology Chapter 01 MCQ Question Answer উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সেমিস্টার ৩ জীববিদ্যার প্রথম অধ্যায় সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন থেকে বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন (MCQ) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য
Class 12 Semester 3 Physics Question Paper with Solution PDF 2025-26
Class 12

Class 12 Semester 3 Physics Question Paper with Solution PDF 2025-26 | উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যা প্রশ্নপত্র উত্তর সহ

Class 12 Semester 3 Physics Question Paper with Solution PDF 2025-26 উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর তৃতীয় সেমিস্টারের পদার্থবিদ্যা প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এখানে PDF আকারে দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নপত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *