Class 10Question Paper

Madhyamik 2026 History Question Paper Solution | মাধ্যামিক ২০২৬ ইতিহাস প্রশ্নপত্র সমাধান সহ

Madhyamik 2026 History Question Paper Solution

মাধ্যামিক ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ সমাধান এখানে দেওয়া হলো। এই পোস্টে প্রশ্নপত্রের প্রতিটি বিভাগের উত্তর সহজ ও স্পষ্ট বাংলা ভাষায় ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা, বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন এবং সংক্ষিপ্ত উত্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাস বিষয়ে দৃঢ় প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৬
বিভাগ – ক
MCQ Mode

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখঃ

১.১ “লেটারর্স ফ্রম এ ফাদার টু হিজ ডটার”- গ্রন্থে মোট চিঠির সংখ্যা কটি?

২০টি
২৫টি
৩০টি
৫০টি
গ. ৩০টি

১.২ ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থটি লিখেছেন—

বিপিনচন্দ্র পাল
সরলাদেবী চৌধুরাণী
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১.৩ রামমোহন রায় ‘ব্রহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন—

১৮১৫ খ্রিঃ
১৮২০ খ্রিঃ
১৮২৩ খ্রিঃ
১৮২৮ খ্রিঃ
ঘ. ১৮২৮ খ্রিঃ

১.৪ ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—

শিবনাথ শাস্ত্রী
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উমেশচন্দ্র দত্ত
হারকানাথ বিদ্যাভূষণ
গ. উমেশচন্দ্র দত্ত

১.৫ কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—

১৮২৫ খ্রিঃ
১৮৩০ খ্রিঃ
১৮৩৫ খ্রিঃ
১৮৪০ খ্রিঃ
গ. ১৮৩৫ খ্রিঃ

১.৬ ভারতে প্রথম ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন প্রণীত হয়—

১৮৬৫ খ্রিঃ
১৮৭০ খ্রিঃ
১৮৭৮ খ্রিঃ
১৮৮০ খ্রিঃ
ক. ১৮৬৫ খ্রিঃ

১.৭ গয়ামুণ্ডা অন্যতম নেতা ছিলেন—

কোল বিদ্রোহের (১৮৩১–৩২)
সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫–৫৬)
মুণ্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯–১৯০০)
চুয়াড় বিদ্রোহের (১৭৯৮–৯৯)
গ. মুণ্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯–১৯০০)

১.৮ উনিশ শতককে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলেছেন—

ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার
ডিরোজিও
ডঃ সুরেন্দ্রনাথ সেন
ডঃ অনিল শীল
ঘ. ডঃ অনিল শীল

১.৯ ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতটি রচিত হয়—

১৮৭০ খ্রিঃ
১৮৭২ খ্রিঃ
১৮৭৫ খ্রিঃ
১৮৭৬ খ্রিঃ
গ. ১৮৭৫ খ্রিঃ

১.১০ ‘ভারত সভা’ প্রতিষ্ঠিত হয়—

১৮৬৭ খ্রিঃ
১৮৭২ খ্রিঃ
১৮৭৫ খ্রিঃ
১৮৭৬ খ্রিঃ
ঘ. ১৮৭৬ খ্রিঃ

১.১১ ‘বসুবিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন—

সত্যেন্দ্রনাথ বসু
রাসবিহারী বসু
জগদীশচন্দ্র বসু
কাদম্বিনী বসু
গ. জগদীশচন্দ্র বসু

১.১২ ভারতে ‘হাফটোন প্রিন্টিং’ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন—

পঞ্চানন কর্মকার
উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী
চার্লস উইলকিনস
সুকুমার রায়
খ. উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী

১.১৩ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন—

মতিলাল নেহরু
তেজবাহাদুর সাপ্রু
বলভাই প্যাটেল
লালা লাজপত রায়
ঘ. লালা লাজপত রায়

১.১৪ বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন হয়েছিল—

মাদ্রাজে
মালাবার উপকূলে
পাঞ্জাবে
গুজরাটে
ঘ. গুজরাটে

১.১৫ ‘দেশপ্রাণ’ নামে পরিচিত ছিলেন—

সত্যেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
রাসবিহারী বসু
চিরঞ্জীব দাস
বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
ঘ. বীরেন্দ্রনাথ শাসমল

১.১৬ দু-কড়ি বালা দেবী যুক্ত ছিলেন—

ছাত্র আন্দোলনে
নারী আন্দোলনে
বিপ্লবী আন্দোলনে
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে
গ. বিপ্লবী আন্দোলনে

১.১৭ কনকলতা বড়ুয়া শহীদ হন—

অসহযোগ আন্দোলনে
আইন-অমান্য আন্দোলনে
বিপ্লবী আন্দোলনে
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে
ঘ. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে

১.১৮ দলিতদের ‘হরিজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন—

জ্যোতিবা ফুলে
নারায়ণ গুরু
ডঃ আম্বেদকর
গান্ধীজি
ঘ. গান্ধীজি

১.১৯ ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়া দখল করেন—

১৯৪৮ খ্রিঃ
১৯৫৪ খ্রিঃ
১৯৬১ খ্রিঃ
১৯৭১ খ্রিঃ
গ. ১৯৬১ খ্রিঃ

১.২০ হরি সিং রাজা ছিলেন—

জয়পুর রাজ্যের
কাশ্মীর রাজ্যের
পাতিয়ালা রাজ্যের
জুনাগড় রাজ্যের
খ. কাশ্মীর রাজ্যের
বিভাগ – খ

২. যেকোনো ১৬ টি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে)

উপবিভাগ – ২.১

একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

(২.১.১) ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

(২.১.২) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন?

১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে।

(২.১.৩) ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ কবে শুরু হয়?

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে।

(২.১.৪) ‘মতূয়া’ ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর।
উপবিভাগ – ২.২

ঠিক না ভুল নির্ণয় করঃ

(২.২.১) বিপিনচন্দ্র পালের জীবনীমূলক গ্রন্থের নাম ‘সত্তর বৎসর’।

ঠিক
ভুল
ক. ঠিক
বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীর নাম ‘সত্তর বৎসর’।

(২.২.২) প্রথম ভারতীয় শব ব্যবচ্ছেদকারী হলেন মধুসূদন দত্ত।

ঠিক
ভুল
খ. ভুল
প্রথম ভারতীয় শব ব্যবচ্ছেদকারী ছিলেন পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্ত।

(২.২.৩) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন ব্যঙ্গ চিত্রশিল্পী।

ঠিক
ভুল
ক. ঠিক
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যঙ্গচিত্র ও কার্টুন অঙ্কনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

(২.২.৪) জাতীয় শিক্ষা-পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।

ঠিক
ভুল
ক. ঠিক
জাতীয় শিক্ষা-পরিষদ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপবিভাগ – ২.৩

‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাওঃ

ক স্তম্ভ খ স্তম্ভ
(২.৩.১) বল্লভভাই প্যাটেল (৪) বারদোলি আন্দোলন
(২.৩.২) ডঃ বি. আর. আম্বেদকর (৩) দলিত আন্দোলন
(২.৩.৩) রশিদ আলি (২) ছাত্র আন্দোলন
(২.৩.৪) মেজর জেনারেল জে.এফ. চৌধুরী (১) হায়দরাবাদ
উপবিভাগ – ২.৪

প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখামানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থান গুলি চিনহিত করঃ

প্রশ্ন উত্তর
(২.৪.১) ওয়াহাবি আন্দোলনের কেন্দ্র বারাণসী
(২.৪.২) কোলবিদ্রোহের কেন্দ্র রাঁচি
(২.৪.৩) মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র ঝাঁসি
(২.৪.৪) মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র দিল্লি

Madhyamik-History-Question-Paper-2026

অথবা

(কেবলমাত্র দৃষ্টিহিন পরীক্ষার্থীদের জন্য)

শূন্যস্থান পুরন করঃ

(২.৪.১) সরলাদেবী চৌধুরাণীর আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম __________ ।

জীবনের ঝরাপাতা।

(২.৪.২) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় __________ খ্রিস্টাব্দে।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে।

(২.৪.৩) সিধু মুর্মু ছিলেন ___________ বিদ্রোহের অন্যতম নেতা।

সাঁওতাল বিদ্রোহের।

(২.৪.৪) সাঁওতাল বিদ্রোহের একজন নেতা ছিলেন ___________ ।

কানহু মুর্মু।
উপবিভাগ – ২.৫

নিম্নলিখিত বিবৃতির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যা টি নির্বাচন করঃ

বিবৃতি : এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে স্যার চার্লস উডের শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাখ্যা :
(১) তিনি ছিলেন কাউন্সিল অব এডুকেশনের সভাপতি।
(২) তিনি ছিলেন কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি।
(৩) তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী।

সঠিক উত্তর হলো ব্যাখ্যা (২) — তিনি ছিলেন কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি।

বিবৃতি : ভারতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন প্রবর্তন করেছিলেন।
ব্যাখ্যা :
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল অরণ্যবাসীদের মঙ্গল সাধন করা।
(২) এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।
(৩) এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করা।

সঠিক উত্তর হলো ব্যাখ্যা (৩) — এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করা।

বিবৃতি : আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন এদেশে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ।
ব্যাখ্যা :
(১) তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কারিগরি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।
(২) তিনি ছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ভারতীয়।
(৩) তিনি ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস-এর প্রতিষ্ঠাতা।

সঠিক উত্তর হলো ব্যাখ্যা (৩) — তিনি ছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস-এর প্রতিষ্ঠাতা।

বিবৃতি : মোপলা বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয় ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে।
ব্যাখ্যা :
(১) এটি ছিল শিল্প শ্রমিকের বিদ্রোহ।
(২) এটি ছিল সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ।
(৩) এটি ছিল একটি উপজাতীয় বিদ্রোহ।

সঠিক উত্তর হলো ব্যাখ্যা (২) — এটি ছিল সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ।
বিভাগ – গ

৩. দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিন্মলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

৩.১ আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে সরকারি নথিপত্রের সীমাবদ্ধতাগুলি কী?

সরকারি নথিপত্র মূলত শাসক ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের অনুভূতি, আন্দোলনের প্রকৃত রূপ ও শোষণের বাস্তব চিত্র অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। তাই ইতিহাস রচনায় এগুলির সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

৩.২ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়, যা জাতীয় আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য। একই বছরে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। এই দুটি ঘটনা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়।

৩.৩ এদেশে শিক্ষা বিস্তারে ইংরেজ শাসকদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

ইংরেজ শাসকদের উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত কর্মচারী শ্রেণি তৈরি করা। এই শ্রেণি ব্রিটিশ প্রশাসন পরিচালনায় সহায়তা করত এবং শাসনকে আরও মজবুত করত।

৩.৪ ‘স্বদেশ সমবায়’ বলতে কী বোঝায়?

দেশীয় পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারের জন্য গঠিত সমবায় ব্যবস্থাকে স্বদেশ সমবায় বলা হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের বিরোধিতা ও আত্মনির্ভরতার চেষ্টা করা হয়।

৩.৫ ‘বিশ্ব’ বলতে কী বোঝায়?

সমগ্র মানবজাতি, সমাজ, প্রকৃতি ও জীবজগতের সমষ্টিকেই বিশ্ব বলা হয়। এতে মানুষ ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে।

৩.৬ ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হল কেন?

ব্রিটিশ সরকারের কঠোর দমননীতি ফরাজি আন্দোলনকে দুর্বল করে দেয়। এছাড়া সংগঠনের অভাব ও নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণেও আন্দোলনটি ব্যর্থ হয়।

৩.৭ ‘হিন্দু মেলা’ প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

হিন্দু মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় চেতনার প্রসার ঘটানো এবং দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে আত্মসম্মান ও ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

৩.৮ জাতীয়তাবাদের উত্থানে সংবাদপত্রের কী ভূমিকা ছিল?

সংবাদপত্র জাতীয় চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় নীতির সমালোচনা করে মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

৩.৯ পঞ্চানন কর্মকার কে ছিলেন?

পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা মুদ্রাক্ষর নির্মাতা। তিনি বাংলা ছাপাখানা ও মুদ্রণশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৩.১০ বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?

স্বদেশি আন্দোলনের প্রভাবে কারিগরি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন।

৩.১১ স্বদেশি আন্দোলনে বাংলার কারখানাগুলি কেন যোগ দেয়নি?

বাংলার অধিকাংশ কারখানার পর্যাপ্ত পুঁজি ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ছিল। ফলে তারা বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি এবং স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দেয়নি।

৩.১২ ওয়ার্কস অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি কেন গঠিত হয়?

শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য এই দল গঠিত হয়। এটি বামপন্থী রাজনীতির বিকাশে সহায়ক ছিল।

৩.১৩ কালচারাল ন্যাশনালিজম বলতে কী বোঝায়?

ভাষা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয় চেতনার বিকাশকে কালচারাল ন্যাশনালিজম বলা হয়। এটি মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যবোধ ও আত্মপরিচয় গড়ে তোলে।

৩.১৪ দলিত কাদের বলা হয়?

সমাজের দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও নিপীড়িত শ্রেণিকে দলিত বলা হয়। তারা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

৩.১৫ ভারতবর্ষের দলিত বলতে কী বোঝায়?

ভারতীয় সমাজে নিম্নবর্ণভুক্ত এবং অস্পৃশ্যতার শিকার মানুষদের দলিত বলা হয়। তারা সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার অর্জনের চেষ্টা করেছে।

৩.১৬ রাজ্যপুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়?

ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালে এই কমিশন গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক সুবিধা ও ভাষাগত ঐক্য নিশ্চিত করা।
বিভাগ – ঘ

৪. সাত বা আটটি বাক্যে নিন্মলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

(প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি করে মোট ৬ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে)

বিভাগ – ঘ-১

৪.১ উনিশ শতকে নবজাগরণ সামাজিক সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণ সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা সম্পূর্ণভাবে সফল হয়নি। এর প্রধান কারণ ছিল এই আন্দোলনের নেতৃত্ব মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে সীমাবদ্ধ থাকা। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ ও নিম্নবর্গের সমাজ এতে খুব কমই যুক্ত ছিল। এছাড়া সমাজ সংস্কারকদের ভাবধারা অনেক সময় সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় সংস্কারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কুসংস্কার, জাতিভেদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামি সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল।

ব্রিটিশ সরকারও অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সংস্কারে আন্তরিক ছিল না, কারণ তারা শাসনব্যবস্থার স্থিতি রক্ষা করতেই বেশি আগ্রহী ছিল। নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের মতো সংস্কার সমাজের একাংশ মেনে নিলেও বৃহৎ সমাজ তা গ্রহণ করেনি। এই সব কারণে উনিশ শতকের নবজাগরণের সামাজিক সংস্কার প্রচেষ্টা আংশিক সাফল্য পেলেও সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হয়।

৪.২ উনিশ শতকের নবজাগরণকে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয় কেন?

উনিশ শতকের নবজাগরণকে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয় কারণ এই আন্দোলন সমাজের সকল স্তরে সমানভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এটি প্রধানত শহরকেন্দ্রিক এবং শিক্ষিত উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামীণ সমাজ, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ এই নবজাগরণের সুফল থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিল।
এই নবজাগরণে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ভাবধারার প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি, ফলে ভারতীয় সমাজের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়েছে। নারী মুক্তি ও সামাজিক সাম্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে নারীরা সমাজে সমান অধিকার পায়নি।

এছাড়া এই আন্দোলন রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে ততটা সক্রিয় ছিল না। ফলে সমাজের সামগ্রিক রূপান্তরের বদলে এটি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি ও অঞ্চলের মধ্যেই আবদ্ধ থেকে যায়। এই সমস্ত সীমাবদ্ধতার কারণেই উনিশ শতকের নবজাগরণকে ‘সীমাবদ্ধ নবজাগরণ’ বলা হয়।

বিভাগ – ঘ-২

৪.৩ উনিশ শতককে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলা হয় কেন?

উনিশ শতককে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলা হয় কারণ এই সময়ে ভারতবর্ষে অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ঘটে। পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এই সচেতনতার ফলস্বরূপ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য সভা ও সমিতি গড়ে ওঠে। ব্রাহ্ম সমাজ, ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন, ভারত সভা, বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রভৃতি সংগঠন এই সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সভা ও সমিতিগুলি সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ, জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া জাতীয়তাবাদের বিকাশেও এই সংগঠনগুলির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগ্রত করার জন্য সভা, বক্তৃতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হত। এই কারণে উনিশ শতককে যথার্থভাবেই ‘সভা সমিতির যুগ’ বলা হয়।

৪.৪ বঙ্গভাষা প্রকাশের শতককে প্রথম রাজনৈতিক জাগরণের শতক বলা হয় কেন?

বঙ্গভাষা প্রকাশের শতককে প্রথম রাজনৈতিক জাগরণের শতক বলা হয় কারণ এই সময়ে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র ও সাহিত্য রচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ে। ‘সমাচার দর্পণ’, ‘সংবাদ প্রভাকর’, ‘বঙ্গদর্শন’ প্রভৃতি পত্রিকা সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা পৌঁছে দেয়। এই সময়ে ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় নীতি ও শোষণের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ শুরু হয়।

বাংলা ভাষায় লেখা হওয়ায় সাধারণ মানুষ এই বক্তব্য সহজে বুঝতে পারে এবং জাতীয় চেতনা গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক আলোচনা এতদিন ইংরেজি ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মাতৃভাষায় প্রকাশিত হতে থাকে। ফলে সমাজের বৃহত্তর অংশ রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এই কারণেই বঙ্গভাষা প্রকাশের শতককে প্রথম রাজনৈতিক জাগরণের শতক বলা হয়।

বিভাগ – ঘ-৩

৪.৭ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার ছাত্র সমাজের কী ভূমিকা ছিল?

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার ছাত্র সমাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই আন্দোলনের সময় ছাত্ররা ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম সারিতে প্রতিবাদ জানায়। তারা বিদ্যালয় ও কলেজে ধর্মঘট সংগঠিত করে এবং ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্জন করে। ছাত্ররা স্বদেশি আন্দোলনের প্রসারে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানায় এবং বিদেশি পণ্য বর্জনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। তারা মিছিল, সভা, বক্তৃতা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জাতীয় চেতনা ছড়িয়ে দেয়।

অনেক ছাত্র বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গোপন সমিতি গঠন করে। ছাত্র সমাজের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করে। এই কারণে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে বাংলার ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়।

৪.৮ দলিত আন্দোলনে ডঃ আম্বেদকরের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

ডঃ বি. আর. আম্বেদকর দলিত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি নিজে অস্পৃশ্য সমাজে জন্মগ্রহণ করেও উচ্চশিক্ষা লাভ করে সমাজ সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দলিতদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেন। আম্বেদকর অস্পৃশ্যতা প্রথার তীব্র বিরোধিতা করেন এবং মন্দির প্রবেশ আন্দোলন সংগঠিত করেন।

তিনি দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবি তোলেন এবং পুনা চুক্তির মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত করেন। ভারতীয় সংবিধান প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে তিনি দলিতদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন। তিনি শিক্ষাকে দলিত মুক্তির প্রধান অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এই সব কারণে দলিত আন্দোলনে ডঃ আম্বেদকরের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী।

বিভাগ – ঙ

৩. ১৫ – ১৬ টি বাক্যে নিন্মলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ

৫.১ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) চরিত্র বিশ্লেষণ করো।


ভূমিকা :
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ছিল ভারতের ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত উত্তর ও মধ্য ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। এর চরিত্র বা প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও, এটি যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল—তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

১. সিপাহি বিদ্রোহ বনাম সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া
স্যার জন লরেন্স ও জন সিলি একে কেবল একটি ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের মতে, এটি ছিল কেবল স্বার্থান্বেষী সিপাহিদের একটি বিশৃঙ্খলা। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার একে ‘ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত শ্রেণির শেষ আর্তনাদ’ বা একটি সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, কারণ বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মীবাই বা নানা সাহেবের মতো ক্ষুব্ধ রাজন্যবর্গ।

২. ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম
বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর ‘The Indian War of Independence’ গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিপাহিরা উপলক্ষ মাত্র হলেও এর মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি লাভ। অনেক মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিকও একে বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ হিসেবে দেখেন।

৩. গণবিদ্রোহ ও জনভিত্তি
বিদ্রোহটি কেবল সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অযোধ্যা, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সাধারণ কৃষক, কারিগর এবং তালুকদাররা এতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক নর্টন দেখিয়েছেন যে, বিদ্রোহের সময় বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ বিচারালয় ও থানা আক্রমণ করেছিল, যা একে একটি ‘গণবিদ্রোহ’-এর রূপ দান করে।

৪. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
এই বিদ্রোহের একটি অনন্য চরিত্র ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের অভূতপূর্ব ঐক্য। বিদ্রোহীরা দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতি এখানে সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

৫. সীমাবদ্ধতা ও জাতীয়তাবাদের অভাব
আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিদ্রোহে আধুনিক জাতীয়তাবাদের অভাব ছিল। বিদ্রোহীদের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা রাজনৈতিক আদর্শ ছিল না। তাঁরা মূলত নিজ নিজ এলাকা বা স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়েছিলেন। শিখ ও গোর্খা রেজিমেন্ট এবং শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, ১৮৫৭-র বিদ্রোহের চরিত্র মিশ্র। এটি শুরু হয়েছিল সিপাহিদের মাধ্যমে, কিন্তু শীঘ্রই তা ব্যাপক জনভিত্তি লাভ করে গণবিদ্রোহের রূপ নেয়। ডঃ এস. এন. সেন-এর মতে, “এটি শুরু হয়েছিল ধর্মের লড়াই হিসেবে, শেষ হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে।” আধুনিক ভারতের মুক্তি সংগ্রামের বীজ এই মহাবিদ্রোহের মধ্যেই উপ্ত ছিল।

৫.২ এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ার এবং ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের ভূমিকা আলোচনা করো।


ভূমিকা :
উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ছিল একটি প্রধান স্তম্ভ। এই শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে যে কজন ইউরোপীয় ভারতপ্রেমী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে ডেভিড হেয়ার এবং জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার

১. পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ার (David Hare)
পেশায় ঘড়ি নির্মাতা হলেও ডেভিড হেয়ার ছিলেন মানবতাবাদী ও শিক্ষা অনুরাগী। তাঁর অবদানসমূহ হলো:

হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা (১৮১৭): পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায় ও রাধাকান্ত দেবের সহযোগিতায় তিনি কলকাতায় ‘হিন্দু কলেজ’ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল এশিয়ায় আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রথম প্রধান কেন্দ্র।

স্কুল বুক সোসাইটি (১৮১৭): শিক্ষার্থীদের হাতে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার জন্য তিনি ‘ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি’ গঠন করেন।

স্কুল সোসাইটি (১৮১৮): প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নতুন স্কুল তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি ‘ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০টি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

অন্যান্য অবদান: তিনি চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার প্রসারে ‘ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবার জন্য তাঁকে ‘বাংলার আধুনিক শিক্ষার জনক’ হিসেবে অনেকে অভিহিত করেন।

২. নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (J.E.D. Bethune)
কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সভাপতি জে. ই. ডি. বেথুন সাহেব মূলত নারীশিক্ষার প্রসারে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর অবদানসমূহ হলো:

বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা (১৮৪৯): রক্ষণশীল সমাজে যখন নারীশিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল, তখন তিনি দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় কলকাতায় ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’ (বর্তমানে বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন।

সামাজিক সংস্কার: তিনি বিশ্বাস করতেন যে নারীদের শিক্ষিত না করলে সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। তাঁর স্কুলে কোনো বেতন নেওয়া হতো না এবং পাঠ্যক্রমে কেবল ভাষা নয়, বরং গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ব্যক্তিগত ত্যাগ: বেথুন সাহেব তাঁর ব্যক্তিগত উপার্জনের বড় একটি অংশ এই স্কুলের জন্য দান করে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বিদ্যাসাগর মহাশয় এই স্কুলের সম্পাদক হিসেবে তাঁর কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।

৩. শিক্ষার প্রসারে যৌথ প্রভাব
ডেভিড হেয়ার এবং বেথুন সাহেবের প্রচেষ্টায় বাংলার সমাজে একটি নতুন শিক্ষিত ও যুক্তিবাদী মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। হেয়ার সাহেব যেখানে ছেলেদের জন্য আধুনিক শিক্ষার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন, বেথুন সাহেব সেখানে পর্দার আড়ালে থাকা মেয়েদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসেন। তাঁদের হাত ধরেই বাংলায় প্রগতিশীল চিন্তার প্রসার ঘটে।

উপসংহার :
পরিশেষে বলা যায়, ডেভিড হেয়ার ও ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন বিদেশি হয়েও এদেশের মানুষের কল্যাণে যে আত্মত্যাগ করেছেন তা অবিস্মরণীয়। তাঁদের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই পরবর্তীকালে বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূতরা উঠে এসেছিলেন। আজীবন কর্মের মাধ্যমে তাঁরা বাঙালির হৃদয়ে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন।

৫.৩ উনিশ শতকে কৃষক আন্দোলনে বাবারা রামচন্দ্রের ভূমিকা কী ছিল? একটি আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।


ভূমিকা :
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিশ শতকের কুড়ির দশকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় যে কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন বাবা রামচন্দ্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যখন কৃষকরা জমিদার ও তালুকদারদের চরম শোষণে পিষ্ট হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁদের সংগঠিত করে এক শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন।

১. বাবা রামচন্দ্রের উত্থান ও সংগঠন
বাবা রামচন্দ্র ছিলেন মহারাষ্ট্রের একজন ব্রাহ্মণ, যিনি ফিজিতে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পর ভারতে ফিরে আসেন। তিনি সন্ন্যাসীর বেশে উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের মধ্যে বিচরণ করতেন এবং রামচরিতমানস পাঠের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতেন। তাঁর মূল কৃতিত্ব ছিল বিচ্ছিন্ন কৃষকদের একটি রাজনৈতিক শক্তিরূপে সংগঠিত করা।

২. অবোধ কিষাণ সভা প্রতিষ্ঠা
কৃষকদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ১৯২০ সালের অক্টোবর মাসে বাবা রামচন্দ্র জওহরলাল নেহরু ও বাবা রামচন্দ্রের উদ্যোগে ‘অবোধ কিষাণ সভা’ (Oudh Kisan Sabha) প্রতিষ্ঠিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে এর কয়েকশ শাখা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল ভারতের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন।

৩. আন্দোলনের দাবি ও কার্যপদ্ধতি
বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে কৃষকরা মূলত তিনটি প্রধান দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু করেন:

  • অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ করা।
  • ‘বেগার’ শ্রম বা বিনা মজুরিতে কাজ করানো বন্ধ করা।
  • জমিদারদের দ্বারা অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ (Bedakhli) বন্ধ করা। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিতেন যাতে তাঁরা জমিদারদের জমিতে কাজ না করেন এবং সামাজিক বয়কটের (নাপিত-ধোপা বন্ধ) মাধ্যমে শোষকদের কোণঠাসা করেন।

৪. একটি আন্দোলনের বিবরণ: অযোধ্যা কৃষক বিদ্রোহ (১৯২০-২১)
১৯২০ সালের শেষদিকে এবং ১৯২১ সালের শুরুতে বাবা রামচন্দ্রের ডাকে এই আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিতে শুরু করে।

বিক্ষোভের রূপ: প্রতাপগড়, রায়বেরিলি ও ফৈজাবাদ জেলায় কৃষকরা জমিদারদের শস্যগোলা লুণ্ঠন করে এবং মহাজনদের ঋণের দলিল পুড়িয়ে দেয়। অনেক জায়গায় কৃষকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।

ধর্মীয় প্রভাব: বাবা রামচন্দ্র কৃষকদের ‘সীতা-রাম’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ করতেন, যা তাঁদের মধ্যে এক বিশাল আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করেছিল।

৫. সীমাবদ্ধতা ও দমন
ব্রিটিশ সরকার বাবা রামচন্দ্রকে গ্রেফতার করলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়। তবে আন্দোলনের চাপে সরকার ১৯২১ সালে ‘অযোধ্যা খাজনা আইন’ (Oudh Rent Act) পাশ করতে বাধ্য হয়, যা কৃষকদের উচ্ছেদ হওয়ার হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। যদিও এই আন্দোলনে আধুনিক জাতীয়তাবাদের পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি, তবুও এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সাধারণ কৃষকদের যুক্ত করার পথ প্রশস্ত করেছিল।

উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, বাবা রামচন্দ্র কেবল একজন ধর্ম প্রচারক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন প্রান্তিক কৃষকদের কণ্ঠস্বর। তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার উত্তর ভারতের গ্রামীন সমাজ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে বুক বেঁধে দাঁড়াতে শিখেছিল।

📢 গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

আমাদের লক্ষ্য সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করা। তবুও অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে গেলে, আমরা চাই সেটি যেন দ্রুত সংশোধন করা হয়।

যদি উপরের পোস্টটিতে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি খুঁজে পান, অনুগ্রহ করে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার সহযোগিতা আমাদের জন্য অমূল্য — কারণ আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী ভুল শিখুক।

মনে রাখবেন: আপনার দেওয়া ছোট্ট একটি মন্তব্য অনেকের শেখার পথ সঠিক রাখতে সাহায্য করবে।

Shares:

Related Posts

Class 10 Bengali Chapter 01 MCQ Shorts Question Answer | মাধ্যমিক বাংলা অধ্যায় 01 - জ্ঞানচক্ষু -এর বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী এবং অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী
Class 10

Class 10 Bengali Chapter 01 MCQ Shorts Question Answer | মাধ্যমিক বাংলা অধ্যায় 01 – জ্ঞানচক্ষু -এর বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী এবং অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী

এই নিবন্ধে আমরা মাধ্যমিক বাংলার প্রথম অধ্যায় অর্থাৎ জ্ঞানচক্ষু এর বেশ কিছু বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী এবং অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্নাবলির উত্তর সম্পর্কে জানবো। Class 10 Bengali Chapter 01 MCQ
wbbse-class-10-geography-short-question-answer-notekoro
Class 10

Class 10 Geography Chapter 01 Short Question Answer

এই পোস্টে আমরা দশম শ্রেণীর ভুগোলের প্রথম অধ্যায় এর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করবো। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর১. বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে ?উত্তরঃ- বহির্জাত প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণকারী প্রধান উপাদান গুলির মধ্যে
Class 10 Physical Science Chapter 01 MCQ Answer
Class 10

Class 10 Physical Science Chapter 01 MCQ Answer | মাধ্যমিক ভৌত বিজ্ঞান অধ্যায় ০১ – পরিবেশের জন্য ভাবনা প্রশ্ন ও উত্তর

এই নিবন্ধে আমরা মাধ্যমিক ভৌত বিজ্ঞান এর প্রথম অধ্যায় অর্থাৎ পরিবেশের জন্য ভাবনা এর বেশ কিছু অতি সংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে জানবো। Class 10 Physical Science Chapter 01
class 10 geography chapter 12
Class 10

Class 10 Geography Chapter 12 Question Answer দশম শ্রেনীর ভূগোল অধ্যায় ১২ “ভারতের মাটি ” অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

এই নিবন্ধে আমরা দশম শ্রেণির ভূগোল দ্বাদশ অধ্যায় "ভারতের মাটি” অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে জানবো। Class 10 Geography Chapter 12 Question Answer Class 10 Geography Chapter 12 Question Answer

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *